25 C
Kolkata
Thursday, December 1, 2022
বাড়িরাজ্যকলকাতাঠিক কি অবস্থায় দিন কাটছে বউবাজারের ঘর ছাড়া মানুষগুলির

ঠিক কি অবস্থায় দিন কাটছে বউবাজারের ঘর ছাড়া মানুষগুলির

১০ টি বাড়ির দেওয়ালে ফাটল। বাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। আতঙ্কে ঘরছাড়া বহু মানুষ। মেট্রোর কাজের জন্য একাধিক বাড়িতে ফাটল। শুক্রবার ভোর রাতে বউবাজারের (Boubazar) মদন দত্ত লেনের একাধিক বাড়িতে ফের ধরল ফাটল। আতঙ্কের জেরে বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। রাত ৩.৩০ নাগাদ তারা টের পান বাড়ি কাঁপছে। কোন রকমে রাত কাটিয়ে ভোর হতেই রাস্তায় বেরিয়ে আসেন তারা। এলাকাবাসীরা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ঘটনার খবর পেয়ে KMRCL-এর আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।

এই ঘটনার জেরে তাদের তরফে বাসিন্দাদের নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে ২০৩ জনকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী হোটেলে রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বাড়িগুলি মেরামত করে তাঁদের ফেরানো হবে। KMCL এর তরফে জানানো হয়েছে, “১০০ স্কোয়ার ফুট দোকান মালিক ও বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ১০০ স্কোয়ার ফুটের বেশি আয়তনের দোকান বা বাড়ির মালিকদের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।” আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সেই টাকা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মেট্রোর ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক অনুমান, গ্রাউটিং এর কাজ চলাকালীন সুড়ঙ্গে জল ঢুকে বিপত্তি ঘটেছে। শুক্রবার ভোর রাতে সুড়ঙ্গ দিয়ে জল ঢুকতে শুরু করে। তার জেরেই এই বিপত্তি ঘটে।

খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শনে যান মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। মেট্রোর কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌যতক্ষণ না পর্যন্ত রেলবোর্ডের শীর্ষস্থান থেকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলতেই থাকবে। কারণ এখানে যারা কাজ করছেন বা যারা কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন তারা কেউই বিষয়টা সামলে উঠতে পারছেন না। আমি অবশ্য ইঞ্জিনিয়ার নই। কিন্তু দীর্ঘদিন কাউন্সিলর থাকার সুবাদে আমার মনে হচ্ছে যে জায়গায় মেশিন আটকে গিয়েছিল ওখানেই ওয়াটার পকেট তৈরি হয়েছে। সেই ওয়াটার পকেট থেকে জল রিভার্সে যাওয়ার জন্যই মাটি ধুয়ে কাদায় পরিণত হচ্ছে।

এই অবস্থায় শনিবার বউবাজারের আরও ৩৪টি বিপজ্জনক বাড়ি খালি করার কথা রয়েছে

আর তার ফলেই এই বিপত্তি ঘটছে। এইরকমভাবে চলতে থাকলে দু’‌দিন অন্তরই এলাকার বাড়িগুলিতে ফাটল দেখা দেবে।’‌ প্রসঙ্গত, এই অবস্থায় শনিবার বউবাজারের আরও ৩৪টি বিপজ্জনক বাড়ি খালি করার কথা রয়েছে। শনিবার ফিরহাদ হাকিম কেএমআরসিএলকে বৈঠকে ডাকেছেন। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে ডাকা ওই বৈঠকে মেট্রোরেল এবং রেল কর্তৃপক্ষের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। জানা গিয়েছে, ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। উল্লেখ্য, শনিবার কেমিক্যাল গ্রাউটিংয়ের মাধ্যমে সুড়ঙ্গে জল ঢোকা বন্ধ করা গিয়েছে।

ঠিক কি অবস্থায় দিন কাটছে বউবাজারের ঘর ছাড়া মানুষগুলির

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: