25 C
Kolkata
Monday, December 5, 2022
বাড়িদেশ বিদেশন্যাটোর বৈঠকে একধিক প্রতিশ্রুতি ইউক্রেনকে ,তবে তেল প্রসঙ্গে দ্বিমত একাধিক দেশ!

ন্যাটোর বৈঠকে একধিক প্রতিশ্রুতি ইউক্রেনকে ,তবে তেল প্রসঙ্গে দ্বিমত একাধিক দেশ!

গতকাল ন্যাটো(NATO),জি৭ ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গতকাল বৈঠকে বলা হয় ইউক্রেনকে আরও সামরিক সাহায্য দেওয়া হবে যদিও। শুধুতাই নয় প্রয়োজন মতো ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রীও দেওয়া হবে। কিন্তু রাশিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনের আকাশকে ‘নো ফ্লাই জ়োন’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্তে কেউ রাজি হয়নি। এবং রাশিয়ার থেকে তেল কেন নিয়েও অনেক দ্বন্ধের মধ্যে আছে দেশগুলি। আজ পোল্যান্ডে যাবেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পোল্যান্ড সরকারের সঙ্গে ইউরোপে বাড়তে থাকা শরণার্থী সমস্যা নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। রাষ্ট্রপুঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউক্রেন থেকে অন্তত ৩৬ লক্ষ শরণার্থী ছড়িয়ে পড়েছেন মহাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বাইডেন বলেন, ১ লক্ষ ইউক্রেনীয়কে তিনি আমেরিকায় আশ্রয় দিতে তৈরি।

রাশিয়া গোটা বিশ্বে যে পরিমাণ তেল রফতানি করে, তার চার ভাগের এক ভাগ যায় ইউরোপে

তাছাড়াও ১০০ কোটি ডলার মূল্যের খাদ্য, ওষুধ, জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসও তিনি দেবেন।আজ পোল্যান্ডে নিযুক্ত আমেরিকার ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’ বাহিনীর সঙ্গে দেখা করবেন বাইডেন। যুদ্ধের প্রায় একমাস কেটে যাওয়ার পর এই বৈঠকগুলি হলো। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, “এই বৈঠক ডাকার একটাই কারণ, যে ভাবে গত এক মাস এক জোটে সকলে লড়েছে, সে ভাবেই সামনের মাস, তার পরের মাস, গোটা বছর জোট বেঁধে থাকতে হবে সকলকে।” তিনি বলেন এই মুহুর্তে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে থাকা এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল বৈঠকে তেলের প্রসঙ্গ উঠতেই মতবিরোধ দেখা দিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে ৪০ শতাংশ জ্বালানি আসে রাশিয়া থেকে। রাশিয়া গোটা বিশ্বে যে পরিমাণ তেল রফতানি করে, তার চার ভাগের এক ভাগ যায় ইউরোপে।

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজ়ান্ডার ডি ক্রু বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে কোনও যুদ্ধ চলছে না। নিষেধাজ্ঞা জারি হলে আমাদের উপরে যেমন তার প্রভাব পড়বে, তেমনই রুশদের আরও বড় ক্ষতি হবে।’’ অনেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চায়। তবে বেলজিয়ামের মতো অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির মতো দেশগুলি বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলে । এই প্রসঙ্গে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন বলেন, ‘‘যত দিন আমরা রাশিয়ার থেকে জ্বালানি কিনব, তত দিন মেনে নিতে হবে, আমরাই ওদের যুদ্ধের খরচ বহন করছি । এটা একটা বড় সমস্যা।’’ অন্যদিকে বাল্টিক রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে মারিনও চান রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে। লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিসজানিস কারিন বলেন, ‘‘পুতিনের অর্থনীতি, রাশিয়ার অর্থনীতিকে একঘরে করে দিতে হবে যাতে যুদ্ধ-যন্ত্রে অর্থ আসা বন্ধ হয়।’’ এই সময় কানাডা জানিয়েছে, তারা ইউরোপে জ্বালানির রফতানি বাড়াতে রাজি।

আরও ১৫০০ কোটি ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল পাঠাবে এইবছর

আমেরিকাও জানায়, তারা এত দিন যা জ্বালানি রফতানি করত ইউরোপে, তার সঙ্গে আরও ১৫০০ কোটি ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল পাঠাবে এইবছর। এরইমধ্যে আমেরিকা ও তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলির জারিকিরা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার ঘরগেরস্থালিতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আমেরিকা আজ দাবি করে, যুদ্ধের ভাঁড়ারও ফুরোতে শুরু করেছে রাশিয়ার। ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় শেষের মুখে। তাছাড়াও অনেক ক্ষেপণাস্ত্র কাজ করছে না। জানা যাচ্ছে, কিভের পূর্ব শহরতলির কিছু অংশের আবার ইউক্রেন নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বলেন, তারা ইউক্রেনের থেকে খবর পান বেশ কিছু জায়গায় পিছু সরেছে রুশ বাহিনী। কিভ দাবি করেছে, খেরসনে তাদের হামলায় নিহত হয়েছে রুশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াকভ রেজান্টসেভ। এই নিয়ে ছয়জন রুশ সেনাকর্তা নিহত হলেন যুদ্ধে। নেটোর দাবি প্রায় ৭ হাজার থেকে ১৫ হাজার রুশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এই ভয়াবহ যুদ্ধ কবে শেষ হবে তার দিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

ন্যাটোর বৈঠকে একধিক প্রতিশ্রুতি ইউক্রেনকে ,তবে তেল প্রসঙ্গে দ্বিমত একাধিক দেশ!

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: