25 C
Kolkata
Monday, December 5, 2022
বাড়িস্বাস্থ্যজেনেনিন পাথরকুঁচি পাতার বিশেষ গুন, পুরোনো যেকোনো রোগ থেকে মিলবে নিস্তার !

জেনেনিন পাথরকুঁচি পাতার বিশেষ গুন, পুরোনো যেকোনো রোগ থেকে মিলবে নিস্তার !

সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টাচ্ছে। রোজকার ব্যস্ত জীবনে ভুল খাদ্যাভাস এবং মানসিক অবসাদের জন্য নানান রোগ দেখা যাচ্ছে। তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু ঔষধি গাছ প্রাচীন কাল থেকে রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে তারমধ্যে পাথরকুচি অন্যতম। এটি দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু হয়। পাতা মাংসল ও মসৃণ, আকৃতি অনেকটা ডিমের মতো। এর চারপাশে আছে ছোট ছোট গোল খাঁজ।এই খাঁজগুলি থেকে নতুন চারার জন্ম হয়। গাছের বয়স হলে ওই গাছের খাঁজ থেকে চারা গজায়। পাথরকুচি পাতা মাটিতে ফেলে রাখলেই ছোট চারা পাওয়া যায়। কাঁকর মাটিতে খুব সহজেই এই গাছ জন্মে।এটি ভেজা, স্যাঁতসেঁতে জায়গায় দ্রুত বৃদ্ধি পকয়।গ্রামীণ চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটি অন্যতম উপকারী গাছ।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, পাথরকুচি পাতা কিডনির রোগসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষ উপকারে আসে। চলুন জেনেনি এই গাছের নানান গুণগুলি –

১) অনেক সময় দেখা যায় পেটটা গ্যাসে ফুলে গেছে, প্রসাব আটকে আছে, আধোবায়ু সরছে না, সেই সময় একটু চিনির সাথে এক বা দুই চামচ পাথর কুচির পাতার রস গরম করে জলের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এরফলে মূত্র তরল হবে, আধো বায়ুরও নিঃসরণ হবে এবং পেট ফাঁপাও কমে যাবে।

২) অনেকসময় সর্দিজনিত কারণে শরীরের নানান স্থানে ফোঁড়া দেখা দেয়। এইক্ষেত্রে পাথরকুচির পাতার রস সকাল-বিকাল এক চামচ করে একসপ্তাহ খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

৩) পিত্তজনিত ব্যথায় রক্তক্ষরণ হলে সকাল ও রাতে এক চামচ পাথর কুচির পাতার রস দুদিন খাওয়ালে এটি থেকে আরাম পাওয়া সম্ভব ।

মৃগী রোগ নিরাময়ে পাথর কুচির পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে খাওয়াতে হবে

৪) মৃগী রোগ নিরাময়ে পাথর কুচির পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে খাওয়াতে হবে। নিয়মিত ব্যবহারে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৫) পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলগণ্ডের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে। দিনে দুবার ২ থেকে ৩টি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খেলে উপকার মিলবে।

৬)সর্দি থেকে নিস্তার পেতে এই পাতা উপকারী। পাথরকুচি পাতা রস করে সেটাকে একটু গরম করতে হবে এবং গরম অবস্থায় তার সাথে একটু সোহাগার খৈ মেশাতে হবে। তিন চামচের সাথে ২৫০ মিলিগ্রাম মিশাতে হবে। সেটি থেকে দুই চামচ নিয়ে সকালে ও বিকালে দুবার খেলে সর্দি সেরে যাবে এবং সর্বদা কাশি থেকে রেহাই মিলবে।

৭) শিশুদের পেটব্যথা হলে, ৩০থেকে ৬০ টি পাথর কুচির পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হবে।

৮) হাতে পায়ে কোথাও কেটে গেলে গাছের টাটকা পাতা পরিমাণ মত হালকা তাপে গরম করে কেটে যাওয়া স্থানে দিলে আরাম পাওয়া যায়।

৯) পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্ ও অর্শ থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

১০) পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে জল থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি জ্বালাপোড়া কমানোয় সক্ষম। পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগালে ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

১১) জন্ডিস নিরাময়ে, লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে টাটকা পাথরকুচি পাতার জুস অনেক উপকারী।

১২)কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত আমাশয় হলে তিন মিলিলিটার পাথরকুচি পাতার রসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন খেলে এর থেকে নিস্তার মিলবে।

১৩) এই পাতার রস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

জেনেনিন পাথরকুঁচি পাতার বিশেষ গুন, পুরোনো যেকোনো রোগ থেকে মিলবে নিস্তার !

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: