25 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
বাড়িদেশ বিদেশশেষ রক্ষা হলো না গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুন সিংহের

শেষ রক্ষা হলো না গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুন সিংহের

জীবনযুদ্ধের অবসান হলো, বাঁচার অদম্য ইচ্ছে থাকলেও অবশেষে গত বুধবারই সেই যুদ্ধে হার মেনেছেন। প্রায় সাত দিনের লড়াইয়ের ইতি পড়লো বুধবার। তামিলনাড়ুর চপার দুর্ঘটনায় একমাত্র প্রাণে বাঁচেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং। সাতদিন লড়াই চলার পর, গত ১৫ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুর কম্যান্ড হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সম্মানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হলো বরুণ সিংয়ের । ৮ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর কুন্নুরের জঙ্গলে ভেঙে পড়ে সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াতের চপার । সেই চপারে ছিলেন বিপিন রাওয়াতের স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াত ও ১২ জন সেনা আধিকারিক।

এই চপার দুর্ঘটনায় ১৩ জনেরই মৃত্যু হলেও একমাত্র রক্ষা পেয়েছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং। আহত অবস্থায় বরুণ সিংকে প্রথমে ওয়েলিংটনের সেনা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখান থেকেই মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয় যে, গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিংয়ের দেহের প্রায় ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। বড়ুনকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দুদিন পরে বায়ুসেনার তরফে বরুণ সিংকে ওয়েলিংটন থেকে আনা হয় বেঙ্গালুরুর কমান্ড হাসপাতালে । শেষের কয়েকদিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে গেলেও বুধবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয় ।

রাজ্য সরকারের তরফে ‘সম্মাননিধি’ হিসাবে মৃত গ্রুপ ক্যাপ্টেনের পরিবারকে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে।

16 তারিখ বিকেলে বিশেষ বিমানে করে ভোপালে বরুণ সিংয়ের দেহ আনা হয়েছিল । শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেদিন তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বইরাগড় শশ্মানঘাটে এসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান । মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের তরফে ‘সম্মাননিধি’ হিসাবে মৃত গ্রুপ ক্যাপ্টেনের পরিবারকে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। উপস্থিত ছিলেন, বরুণ সিং-এর স্ত্রী, সন্তান, পরিবার,ও প্রতিবেশীরা ।এই বছরের আগস্ট মাসেই শৌর্য চক্র পেয়েছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং ।

আগের বছর গুরুতর যান্ত্রিক গোলযোগের পরও, তিনি যেভাবে দক্ষতার সঙ্গে সেনাবিমান তেজাস ফাইটার জেটকে সামাল দিয়েছিলেন এবং সুরক্ষিতভাবে অবতরণ করেন সেই কাজের জন্যই তাঁকে এই শৌর্য চক্র দেওয়া হয় ।বলা হয় হচ্ছে , ক্যাপ্টেন বরুণ সিং যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে এই চপার দুর্ঘটনায় তদন্তে বিশেষ সহায়তা হত। কারণ একমাত্র তিনিই গোটা দুর্ঘটনা ও শেষ মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন। দৃশ্যমানতার সমস্যা, খারাপ আবহাওয়া, যান্ত্রিক গোলযোগ, হাই-টেনশন তারে ধাক্কা-সহ একাধিক তত্ত্ব উঠে আসলেও, কেনো এই দুর্ঘটনা হলো সেটি এখনও ধোঁয়াশা ।

শেষ রক্ষা হলো না গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুন সিংহের

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: