25 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
বাড়িরাজনীতিচার পুর নিগমে এখনই ভোট হলফনামা রাজ্য সরকারের

চার পুর নিগমে এখনই ভোট হলফনামা রাজ্য সরকারের

ঝড়ের গতিতে বেড়ে চলেছে কোরনা সংক্রমন । কিছু দিন আগেই ৪ টি পুর নিগমে ভোটের দিন ঘোষণা করে রাজ্য । তবে এই পরিস্থিতিতে চার পুর নিগমে এখনই ভোট হওয়া নিয়ে মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে । সেই মামলায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন আদালতে একটি হলফনামা পেশ করে । রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও একটি হলফনামা দেওয়া হয়। জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ”পশ্চিমবঙ্গ দেশের সংক্রমণে প্রথম স্থানে রয়েছে । ফলে এই হলফনামায় উল্লেখের দিকে না তাকিয়ে , নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া উচিত । দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীদের অক্সিজেন নিয়ে সতর্ক করেছেন । কী পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে আমরা কেউ জানি না ।”তিনি আরও বলেন, ”ভোট পরিচালনার প্রশ্নে সর্বোচ্চ ক্ষমতা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আছে । নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের আছে । এই গুরুতর পরিস্থিতিতে আদালত নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিক ।”

প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চে বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকেও ভোট পিছিয়ে দেবার আর্জি দেওয়া হয় ৷বিজেপি আইনজীবী বলেন, ”রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি প্রতিদিন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে । ৪০% কাছাকাছি কোভিড পজিটিভিটি রেট রাজ্যে । এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে ভোট পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই ।” তার পাল্টা জবাবে কমিশনের আইনজীবী বলেন, ”ভোটের দিনক্ষণ প্রথমে রাজ্য চূড়ান্ত করে । আইন তাই বলছে। আমরা রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করি ।” প্রধান বিচারপতি পাল্টা , ”সংবিধান তো বলছে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত । তাহলে রাজ্যকে কমিশনের হ্যান্ডস বলতে চাইছেন কেন। কমিশন বলছে রাজ্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে, আর রাজ্য বলছে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ঘন্ট ঠিক হয় । তবে কোনটা ঠিক ”কমিশনের আইনজীবী বলেন, ”দিনক্ষণের প্রাথমিক প্রস্তাব রাজ্য দেবে । তারপর আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত নির্ঘন্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে কমিশন ।”

রাজ্যের তরফে এদিন আইনজীবী বলেন, ”ভোট পরিচালনা এবং ভোট পিছোনোর প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনই ।” আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, ” এখন আর কোনো অতিরিক্ত সময় কমিশনকে দেওয়া যাবে না । কমিশনের আইনজীবী জেনে এসে জানান , ভোট পিছোনোর কোনও আইনি পথ বা সংস্থান আছে কিনা তাদের কাছে।” এই কথা শোনার পর কমিশনের আইনজীবী কোর্ট রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান ।আবার কমিশনের চূড়ান্ত অবস্থান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চে তারা জানায় , “কমিশনের ক্ষমতা নেই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া নির্বাচনকে পিছিয়ে দেবার । যদি রাজ্য না বিপর্যয় ঘোষণা করে। কমিশনকে সংবিধান বোঝাচ্ছেন এখন প্রধান বিচারপতি । কমিশন কোভিড পরিস্থিতি যাচাই করতে অক্ষম ।” এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন , “রাজ্য কোভিড পরিস্থিতি জরিপ করে বললে, তবেই কমিশন সেটা বুঝবে, এটাই বলতে চাইছে তো কমিশন “।নানান তর্কবিতর্ক চললেও শেষে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি । এখন সবার চোখ হাই কোর্টের দিকে । নির্বাচন হবে কি না সেটা এখনই বলা সম্ভব না ।

চার পুর নিগমে এখনই ভোট হলফনামা রাজ্য সরকারের

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: