25 C
Kolkata
Sunday, September 25, 2022
বাড়িসম্পাদকীয়বাঘাযতীন ও সাভারকর-এর কিছু জানা অজানা কথা

বাঘাযতীন ও সাভারকর-এর কিছু জানা অজানা কথা

ওক গাছের কাঠের তৈরি ফলকে নিজের প্রয়াত সঙ্গীদের নাম লিখে রাখতেন বিপ্লবী রাসবিহারী বসু।

বাঘাযতীন ও সাভারকর-এর স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস

যে আগুন ঝরানো মুখগুলি একদা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বড়কর্তাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁরা কেউই মর্যাদা পাননি। আমাদের পাঠ্যসূচীতে তাঁদের ঠাঁই মেলেনি।বস্তুত , যদুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের লেখা “বিপ্লবী জীবনের স্মৃতি”, ত্রৈলোক্য চক্রবর্তীর “জেলে ত্রিশ বছর ও পাক ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস” আর কালীচরণ ঘোষের “Roll of Honour” – এই তিনটি বই বেরোনোর আগে অগ্নিযুগের ইতিহাস নিয়ে চর্চা ছিল যৎসামান্য!

কিন্তু মহানায়কদের স্মৃতির মণিকোঠায় তাদের স্থান ছিল চির-অমলিন। ভারত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে একটি ওকে গাছের কাঠের তৈরি ফলকে রাসবিহারী বসু তাঁর সেইসব সঙ্গীদের নাম লিখে রাখতেন, যারা দেশের জন্য সর্বস্ব উৎসর্গ করলেও দেশ তাদের মনে রাখেনি।

সেরকমই একজন ছিলেন সাভারকর। মহানায়ক বাঘাযতীনকে আজ বাঙ্গালা বা দেশ কতখানি মনে রেখেছে, তা তর্কযোগ্য। কিন্তু সাভারকর, মৃত্যুঞ্জয়ী বীর বাঘাযতীনকে চিরদিন অপরিসীম শ্রদ্ধা করতেন। অগ্নিযুগের এই শহীদরা যে ইতিহাসে সঠিক মর্যাদা পাননি, এ নিয়ে আক্ষেপ ছিল তাঁর। বাঘাযতীনের স্মরণে স্মৃতিরক্ষা কমিটি গড়ে উঠলে তিনি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রেরণ করেন, যা থেকে বোঝা যায় , বাঘাযতীন তাঁর কাছে ঠিক কতখানি শ্রদ্ধেয় ছিলেন। বিবৃতিটির বঙ্গানুবাদ করেছেন, স্বয়ং বাঘাযতীনের পৌত্র পৃথ্বীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।

সমস্ত বিবৃতিটি নীচে দেওয়া হলো –

” স্বাধীনতার মহাসংগ্রামে আমরা কিছু সাফল্যলাভ করিলেও, পূর্ণ বিজয়ের জন্য আমাদিগকে অবশ্যই শেষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হইতে হইবে। এবং শেষ যুদ্ধে জয়লাভ করিতে হইলে আমাদের শহীদ “সৈনিক ও সেনাধ্যক্ষদের অমর কার্যাবলী পর্যালোচনা করিতে এবং উহা হইতে নূতন শক্তি ও অনুপ্রেরণা লাভ করিতে হইবে।

১৯১৫ সালে বালাসোরে ভারতের বীর বিপ্লবীগণ ক্যাপ্টেন যতীন মুখার্জির নেতৃত্বে ব্রিটিশ শক্তিকে যে সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বান জানাইয়াছিলেন, তাঁহার স্মৃতি পালনের জন্য আপনারা যে আয়োজন করিয়াছেন, আমি সর্বান্তকরণে তাহা সমর্থন করিতেছি। সেই বিশেষ সংগ্রাম ক্ষেত্রে নিহত বীর স্বদেশপ্রেমিকগণের স্মৃতির প্রতি আমি আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। কারণ ইঁহাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিয়া প্ৰকৃতপক্ষে আমরা ভারতের বিপ্লব আন্দোলনের প্রতিই সম্মান প্রদর্শন করিব।

ভারতের বিপ্লবীগণ নির্ভীকচিত্ত এবং দুর্দমনীয় সাহসের উপর নির্ভর করিয়া ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালাইয়া আসিয়াছেন- তাহারই ফলে ভারত আজ স্বাধীনতার দ্বারদেশে আসিয়া উপনীত হইয়াছেন। কিন্তু আমাদের একথা ভুলিলে চলিবে না যে স্বাধীনতা মহাসংগ্রামে আমরা কথঞ্চিৎ জয়ী হইলেও পূর্ণ বিজয়ের জন্য আমাদিগকে অবশ্যই শেষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হইতে হইবে। স্বাধীনতার সেই শেষ সংগ্রামে জয়লাভ করিতে হইলে দেশের মুক্তির সংগ্রামে নিহত আমাদের শহীদ সৈনিক এবং সেনাধ্যক্ষদের অমর কার্যাবলী পর্যালোচনা করিতে এবং ইহা হইতে নূতন নূতন শক্তি এবং অনুপ্রেরণা গ্রহণ করিতে হইবে।

বিপ্লবীগণ সর্বদাই ভিন্নপথগামী স্বদেশপ্রেমিকদের সাহায্য গ্রহণ করিতে প্রস্তুত কিন্তু অহিংসা কারাবরণ এবং আত্মবিসর্জনের নীতির নিকট নতি স্বীকার করিয়া ব্রিটিশ শক্তি ভারতে শান্তিপূর্ণ এবং রক্তপাতহীন বিপ্লব আনয়ন করিয়াছে বলিয়া একশ্রেণির লোক যে হীন প্রচারকার্য চালাইয়া থাকে – পরিষ্কার এবং কঠোর ভাষায় তাহার প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। ইতিহাসেও ইহার কোনো নজির পাওয়া যায় না।এইরূপ অনিষ্টকর প্রচারকার্যের প্রতিবাদ করা না হইলে জাতির মধ্যে কাপুরুষতা ও ক্লীবত্ব দেখা দিবে।

১৯০১ সাল হইতে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত যদি ভারতের বিপ্লব আন্দোলনের একটি মৌলিক ইতিহাস রচনা করা হয় এবং বিপ্লব আন্দোলনের সমস্ত নায়কদের তিরোধানের পূর্বেই যদি ইহা করা সম্ভব হয়, তাহা হইলে দেশকে উল্লিখিত অনিষ্টমূলক প্রচারকার্যের হাত হইতে রক্ষা করা সম্ভব হইতে পারে।

স্বাধীনতা আন্দোলনে সাভারকর

আপনাদের স্মৃতি কমিটি যদি এই কার্যের ভার গ্রহণ করেন, তাহা হইলে বীর যতীনের প্রতি প্ৰকৃত শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হইবে।

বাঘাযতীন ও সাভারকর-এর কিছু জানা অজানা কথা

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: