25 C
Kolkata
Sunday, September 25, 2022
বাড়িসম্পাদকীয়India independence day: ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে কিছু রোমহর্ষক অজানা ইতিহাস যা জানলে...

India independence day: ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে কিছু রোমহর্ষক অজানা ইতিহাস যা জানলে অবাক হবেন আপনিও

  • Some exciting unknown history about India’s independence that will surprise you too

ভারতের স্বাধীনতা (India independence) নিয়ে এমন অনেক কথাই আছে যা আমরা ভারতবাসী হয়েও জানি না। চলুন জেনে নিই তেমনি কিছু রোমহর্ষক অজানা ইতিহাস যা জানলে অবাক হবেন আপনিও। আমরা সকলেই জানি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা (India independence) লাভ করে। অর্থাৎ এই দিন টি ভারতের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সুদীর্ঘ।

কিন্তু কেন ১৫ আগস্ট দিনটিকেই বেঁছে নেওয়া হল ? ঠিক কি ঘটেছিল ১৪ আগস্ট রাতে ? ১৪ আগস্ট সেই রাত যেটি ভারতবর্ষের ইতিহাস, ভূগোল, ভবিষ্যৎ, চিন্তাধারা সবটাই পাল্টে দিয়েছিল। চলুন সেই সব কথাই এখন আপনাদের জানাবো । ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছিল। রাত ৯ টা বাজতে না বাজতেই রায় সিনহা হিলে প্রায় ৫ লক্ষ লোকের সমাগম হয়েছিল। তখনও বৃষ্টি থামার কোনও আভাস মিলছিল না। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, জহরলাল নেহেরু, ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং মাউন্ট ব্যাটেন ভাইসরয় হাউসে পৌঁছান। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জহরলাল নেহেরু।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাত ১২ টা বাজার ঠিক কিছুক্ষণ আগে জহরলাল নেহেরু দুটি লাইন বলে নিজের বক্তব্য শুরু করেন।(At the stroke of the midnight hour when the world sleep… India will be awake to life and freedom) এরপর রাত ১২ টা বাজতেই ১৯০ বছরের দাসত্ব থেকে ভারতবর্ষ চিরদিনের মত মুক্তি পায়। সেই সময় পুরো ভারতবর্ষে খুশির হওয়া বইছিল।

ভারতের স্বাধীনতা : আজাদ হিন্দ ফৌজ ইংরেজদের পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল

কিন্তু এই খুশির মাঝেও কোথাও একটা কষ্ট জনগণের মনের মধ্যে ছিল। কারণ সেই রাতেই ৮ কোটি ১৫ লক্ষ মানুষ প্রায় ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৩৭ স্কোয়ার কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকা সমেত  ভারতবর্ষ হারিয়ে ফেলে। দেশ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় – ভারত এবং পাকিস্তান। ভারতবর্ষ সহজেই স্বাধীনতা পায়নি ।

১৫ আগস্টের অনেক আগে থেকেই ব্রিটিশ শাসনের সূর্য অস্ত হয়ে গিয়েছিল।কারণ, মহাত্মা গান্ধীর জন আন্দোলনের ফলে দেশবাসীর মধ্যে স্বাধীনতা পাওয়ার আশা শুরু হয়ে গেছিল । অন্যদিকে সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজ ইংরেজদের পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

independence day of india

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকারের আর সেই ক্ষমতা ছিল না যে, ভারতবর্ষের উপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখবে। সেই কারণে মাউন্ট ব্যাটেনকে ভারতের শেষ ভাইসরয় বানানো হয়েছিল,যাতে দেশকে সরকারী নিয়ম অনুসারে স্বাধীনতা দেওয়া যায়। ইংরেজরা ঠিক করেছিল ১৯৪৮ সালের ৩ জুন ভারতবর্ষকে স্বাধীন দেশ হিসাবে ঘোষণা করবে। কিন্তু মহম্মদ আলি জিন্না সেখানে বাঁধা দেন। তিনি একটি আলাদা স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি করেন। যেটি বর্তমানে পাকিস্তান নামে পরিচিত। এর ফলে গোটা দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বেঁধে যায়।

পরিস্থিতি এতটাই খারাপের দিকে এগোতে  থাকে যার ফলে ইংরেজরা সিদ্ধান্ত নেন যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভারতবর্ষকে স্বাধীন দেশ হিসাবে ঘোষণা করবেন। কারণ কোথাও না কোথাও বহুকাল আগেই ভারতবর্ষকে দুটি ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা করে ফেলেছিল ব্রিটিশ শাসকরা। ভারত,পাকিস্তান ভাগের জন্য মাত্র ৭৩ দিন সময় দেওয়া হয়। কিন্তু এই বিভাজন এতটাও সহজ ছিল না।

India independence day: এই বিভাজনে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক শুরু হয় টাকা নিয়ে

ভারতবর্ষে দুটি জাতি, বিস্তীর্ণ এলাকা এবং আরও অনেক জিনিস যেমন ব্যাঙ্কের মধ্যে থাকা নগদ টাকা, ডাক টিকিট সব কিছুই দুটি ভাগে ভাগ হওয়ার কথা চলছিল। এই বিভাজনের জন্য দুই অভিজ্ঞ আধিকারিককে বেছে নেওয়া হয়। ওই দুই অভিজ্ঞ আধিকারিকদের মধ্যে একজন ছিলেন H.M. Patel এবং অন্য একজন ছিলেন চৌধুরি মহম্মদ আলি। এদের অধীনে অনেক ছোটো বড় আধিকারিকরা কাজ করতেন যারা আলাদা আলাদা জায়গা থেকে রিপোর্ট তৈরি করে তাদের কাছে পাঠাতেন। এই রিপোর্ট গুলির ওপর ভিত্তি করেই ওই দুই আধিকারিক বিভাজনের রিপোর্টটি তৈরি করতেন। যা বিভাজন পরিষদের কাছে পাঠানো হত। এর অধ্যক্ষ ছিলেন মাউন্ট ব্যাটেন। এই বিভাজন শুরু হয় দেশের নাম দিয়ে। কংগ্রেস পার্টি দেশের বহুমূল্য সম্পত্তি অর্থাৎ, দেশের নাম বেছে নেন ভারত। এর আগে তাদের কাছে ভারতের নাম ‘হিন্দুস্তান’ রাখার যে প্রস্তাবটি রাখা হয় সেটি কংগ্রেস পার্টি খারিজ করে দেয়।

independence day of india

এই বিভাজনে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক শুরু হয় টাকা নিয়ে। এই ঝামেলা এতটাই বেড়ে যায় যে, H.M. Patel এবং চৌধুরি মহম্মদ আলিকে বল্লভভাই প্যাটেলের বাড়িতে ততক্ষন আটকে রাখা হয় যতক্ষণ তারা কোনও সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারে। এরপর নানা তর্ক বিতর্কের পর তারা সিদ্ধান্তে আসে যে, ভারতের ব্যাঙ্ক গুলিতে পড়ে থাকা টাকা এবং ইংরেজদের থেকে পাওয়া টাকার  ১৭.৫% টাকা পাকিস্তানকে দেওয়া হবে। এর পরিবর্তে পাকিস্তান ভারতের ঋণের ১৭.৫% পরিশোধ করবে। এছাড়াও ভারতের সরকারী দপ্তরে পড়ে থাকা সম্পত্তির ৫০% ভারতকে এবং ২০% পাকিস্তানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ভারতের প্রতিটি সরকারী দপ্তরে পড়ে থাকা টেবিল, চেয়ার, টাইপ রাইটার প্রভৃতি গননা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু শুধুমাত্র একটি জিনিসের জন্য কোনও বিতর্ক হয়নি। সেটি হল মাদক। যত মাদক ছিল সেটি ভারতকে দেওয়া হয়। তাঁর বদলে ভারতের  কিছু টাকা দিতে হয় পাকিস্তানকে। ভারতের ১৮০৭৭ মাইল লম্বা রাস্তার মধ্যে ৪৯১৩ মাইল রাস্তা এবং ২৬,৪২১ মাইল রেল লাইনের মধ্যে ৭১১২ মাইল রেল লাইন পাকিস্তানের ভাগে আসে।

ভারতের স্বাধীনতা : শুধু ভারতীয়রাই নয় ইংরেজরাও শুভ অশুভতে বিশ্বাস করতেন

শুধু তাই নয় ভারতের লাইব্রেরিতে থাকা বইগুলি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। তবে এই বিভাজন থেকে একটি জিনিষকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয় তা হল ভারতের গুপ্তচর বিভাগ। ভারত সিদ্ধান্ত নেয় তাদের গুপ্তচর বিভাগের কোনও বিভাজন হবে না। গুপ্তচর বিভাগের আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন তারা একটি ফাইলতো দূরে থাক একটি পেনও পাকিস্তানকে দেবে না। পাকিস্তান একটি নতুন দেশ হওয়ায় তাদের নিজস্ব নোট বানাতে হবে। কিন্তু তখন ভারতে একটি মাত্র প্রেস ছিল যেখানে নোট ছাপা হত। এই কারণে ভারত সেটি দিতে স্পষ্ট ভাবে না করে দেয় ।

কিন্তু, এখন প্রশ্ন হচ্ছে ১৫ আগস্ট দিনটিকেই কেন স্বাধীনতার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ? বলা হয় শুধু ভারতীয়রাই নয় ইংরেজরাও শুভ অশুভতে বিশ্বাস করতেন। মাউন্ট ব্যাটেন মনে করতেন ১৫ আগস্ট দিনটি শুভ। কারণ ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জাপান নিজের বশ্যতা স্বীকার করেছিল। যা ২ সেপ্টেম্বর সরকারী ভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এই কারণে মাউন্ট ব্যাটেন মনে করেছিলেন ১৫ আগস্ট দিনটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির জন্য শুভ। কিন্তু সময় রাত ১২ টাই কেন ? বলা হয় ভারতীয় জ্যোতিষিরা মনে করতেন দেশের স্বাধীনতার জন্য রাত ১২ টা সময়টা শুভ। এই কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জহরলাল নেহেরু রাত ১২ টার আগেই নিজের ভাষণ শেষ করবেন এবং রাত ১২ টা বাজতেই শঙ্খ ধ্বনির সাথে ভারতের লোকতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। এবং সেটাই হয়েছিল।

independence day of india

১৫ আগস্ট সকাল ৮.২৩ মিনিটে জহরলাল নেহেরু এবং তাঁর ক্যাবিনেটের মন্ত্রীরা সকলে শপথ নেন। রাতের মুশলধারে বৃষ্টির পর সকালে আকাশ পুরো পরিষ্কার ছিল। সকলেই অপেক্ষা করছিল স্বাধীন ভারতের পতাকা আকাশে উড়তে দেখার জন্য। দেশের পতাকা সবার প্রথম জহরলাল নেহেরু রাত ১২ টার সময় পার্লামেন্ট সেন্টার হলে উত্তোলন করেছিলেন এবং দ্বিতীয় বার ১৫ আগস্ট সকাল ৮.২৩ মিনিটে ব্রিটিশ রাষ্ট্রের পতাকা নামিয়ে দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকা সকল জনসম্মুখে উত্তোলন করেন। ভারতবাসীর চোখে সেদিন ছিল খুশির জল। সেই দিনই ইংরেজরা ভারতবর্ষ থেকে চিরকালের মত বিদায় নেয়।

75th independence day of India: ফ্ল্যাগ বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার তরফে কিছু সংশোধন আনা হয়েছে

তারপরই এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়। আজ ভারত সরকারের তরফে আজাদী কা অমৃত কর্মসূচি (azadi ka amrit mahotsav) পালন করা হয়। যা ২০২১ সালের  ১২ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ১৫ আগষ্ট শেষ হবে। এ বছর (২০২২ সাল) ৭৫ তম ভারতের স্বাধীনতা দিবস (75th independence day of India)।

এছাড়াও আর একটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হল হার ঘর তিরঙ্গা অভিযান। অর্থাৎ সকল ভারতবাসীকে ওই দিন পতাকা উত্তোলনের জন্য আহবান জানানো হয়। ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য আগে থেকে বেশ কিছু নিয়ম ফ্ল্যাগ বোর্ড অফ ইন্ডিয়াতে লিপিবদ্ধ ছিল। কিন্তু চলতি বছরে এই নিয়মে কিছু সংযোজন হয়েছে।

পূর্বের নিয়মানুসারে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে কোন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারবে। কিন্তু সূর্যাস্তের পর আর কোনোভাবেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। আর যে নিয়মটি প্রযোজ্য ছিল সেটি হল, শুধুমাত্র মেশিন বা পলিস্টারের তৈরি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুমতি ছিল, পলিস্টার ছাড়া অন্য কোন কাপড়ের পতাকা ব্যবহার করা হতো না।

কিন্তু বর্তমানে ২০২২ সালে ফ্ল্যাগ বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার তরফে কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মানুসারে, জাতীয় পতাকা মাটিতে ফেলা বরদাস্ত করা হবে না। এবার থেকে জাতীয় পতাকা তৈরি হবে হাতে কেটে বোনা তুলো, সিল্ক বা খাদি দিয়ে। পতাকাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। জাতীয় পতাকাতে কোন রকম অক্ষর বা শব্দ লেখা নিষিদ্ধ । পোশাক বা ইউনিফর্ম হিসাবে জাতীয় পতাকার ব্যবহার সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। ফ্ল্যাগ বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার তরফে জাতীয় পতাকার যে মডেল দেওয়া আছে সেই মডেল ছাড়া অন্য কোনো মডেল ব্যবহার করা যাবে না।

independence day of india

ভারতের স্বাধীনতা : প্রত্যেক বছর স্বাধীনতা দিবসের পরের দিন কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা আমরা দেখতে পাই

অনেক সময় ছেড়া ফাটা পতাকা লক্ষ্য করা যায়। জাতীয় পতাকাকে যাতে অবমাননা না করা হয় সেই কারণেই এই সকল নিয়মগুলি ধার্য করা হয়েছে। প্রত্যেক বছর স্বাধীনতা দিবসের পরের দিন কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা আমরা দেখতে পাই যা একেবারেই কাম্য নয়। কখনও আমরা দেখি রাস্তায় পতাকা পড়ে আছে। আবার কখনও দেখা যায় অনেক মানুষ জাতীয় পতাকা রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় পাড়িয়ে চলে যান। এর সকল কারণ গুলির জন্য জাতীয় পতাকার অবমাননা হয়।

সকল ভারতবাসীর উদ্দেশ্যে আমাদের বার্তা এই যে আপনারা সকলে ভারতের জাতীয় পতাকাকে সম্মান করুন।কারণ এই আজাদী আমরা সহজে পাইনি, হারাতে হয়েছে বহু বীর দেশপ্রেমিকের প্রাণ জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করা মানে সেই মহান বীরপুরুষদের অসম্মান করা। দয়া করে জাতীয় পতাকাকে রাস্তায় ফেলে দেবেন না, এই ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস (75th independence day of India) উপলক্ষে সকল দেশবাসীর কাছে একান্ত অনুরোধ আপনারা কেউ দয়া করে জাতীয় পতাকার অবমাননা করবেন না। জাতীয় পতাকার অবমাননা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

India independence day: ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে কিছু রোমহর্ষক অজানা ইতিহাস যা জানলে অবাক হবেন আপনিও

history of indian flag: ভারতীয় জাতীয় পতাকার ইতিহাস, কে প্রথম এটি তৈরি করে?

ভারতের স্বাধীনতা দিবস এবং সংগ্রামের ইতিহাস

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: