25 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
বাড়িরাজ্যবেতন বাকি থাকলে কোনোভাবেই স্কুলে ঢুকতে দেওয়া যাবেনা

বেতন বাকি থাকলে কোনোভাবেই স্কুলে ঢুকতে দেওয়া যাবেনা

কোরনাকালে বেসকারী স্কুল গুলির বিরুদ্ধে জোর করে বেতন নেওয়ার অভিযোগ ওঠে আসছিল। কোরনাকালে অনেকেই নিজের কাজ হারান অনেকে আছেন যারা বেতন পাচ্ছিলেন না। ফলে তাদের পক্ষে টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিলনা। কিন্তু বেসরকারি স্কুলগুলি টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল এবং টাকা না দিলে নতুন ক্লাসে উত্তীর্ণ করছিল না। হাইকোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় বেতন বাকি থাকলেও কোনও পড়ুয়াকে নতুন ক্লাসে ওঠা আটকানো যাবে না। স্কুলে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাঁধা দেওয়া যাবে না। বেসরকারি স্কুলগুলির বেতন সংক্রান্ত মামলায় অন্তর্বতী নির্দেশে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট । কিন্তু এর পরেও জিডি বিড়লা সমেত কয়েকটি স্কুল নির্দেশিকা জারি করে বলে বেতন বাকি থাকলে কোনোভাবেই স্কুলে ঢুকতে দেওয়া যাবেনা।

এই নোটিসকে কেন্দ্র করে আজ নতুন জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে একটি নির্দেশিকায় আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছিল, কোনও অজুহাতেই পড়ুয়াদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।আজ এই বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবীরা। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। এর আগে বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে স্কুলগুলির বিরুদ্ধে বেতন-সহ নানা ইস্যুতে অন্তত ৪০ টি আদালত অবমাননার অভিযোগ জমা পড়েছে। এখনো ওই ডিভিশন বেঞ্চেই স্কুলগুলির তরফেও একই রকম অভিযোগ ঝুলছে । অভিভাবকেরা বলেন তাদের আদালতের উপরে পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন তাঁরা।

স্কুলে ঢোকার সময়ে পুরো বেতন মেটানো পড়ুয়াদের গলায় নতুন পরিচয়পত্র পরিয়ে তবে ঢোকানো হয়।

স্কুলের নোটিসকে ঘিরে অভিভাবকদের আন্দোলনের জন্য আইন-শৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে জিডি বিড়লা স্কুল, অশোকা হল এবং মহাদেবী বিড়লা শিশু বিহার স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার থেকে ফের ক্লাস শুরু হল স্কুলগুলিতে। কিন্তু স্কুলগুলির তরফ থেকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয় যেসব পড়ুয়ার পূর্ণ বেতন মেটানো হয়নি তাদের স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এরফলে এদিন পূর্ণ বেতন পড়ুয়াদের হলুদ রঙের পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্কুলে ঢোকার সময়ে পুরো বেতন মেটানো পড়ুয়াদের গলায় নতুন পরিচয়পত্র পরিয়ে তবে ঢোকানো হয়।

অভিভাবকদের তরফে দেবাশিস বসু, রাজিব সাহা, মৌমিতা চন্দ, জানান তারা সোমবার স্কুলে সন্তানদের পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ জানায়, পড়ুয়াদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য কর্তৃপক্ষ এই হলুদ কার্ড চালু করে । স্কুল কর্তৃপক্ষ তরফে জানানো হয়, বিষয়টি আদালতের বিবেচনাধীন। তাই এই নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করবেন না।একজন অভিভাবক বলেন, ”স্কুল নিয়ে অহেতুক গোলমালের কোনও মানে হয় না। লকডাউন পর্বে যারা তাদের আর্থিক অসুবিধার কথা জানিয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন বিবেচনা করে সহযোগিতা করেছে।” এবার আদালতের রায়ের দিকে সকলেই তাকিয়ে আছে।

বেতন বাকি থাকলে কোনোভাবেই স্কুলে ঢুকতে দেওয়া যাবেনা

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: