25 C
Kolkata
Sunday, October 2, 2022
বাড়িসম্পাদকীয়নেতাজীর রহস্যময় চিঠি

নেতাজীর রহস্যময় চিঠি

আবার নেতাজি.. .. চিঠিটির ভিত্তিতেই ১৯৫৪ সালে অনিতাকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং নেতাজির কন্যা হিসেবে স্মীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার চিঠিতে কোনো মহিলার নাম নেই। অথচ শুধুমাত্র এই চিঠির ওপর ভিত্তি করে Government of India Ministry of External Affairs এক জনকে নাগরিকত্ব ও পিতৃত্ব দিলো!! এবার চিঠির অসঙ্গতির প্রশ্নে আসি। চিঠি-টি বহুসংখ্যক নেতাজি গবেষক জাল বলে মনে করেন। তার সপক্ষে বিভিন্ন কারণে তুলে ধরা হয়েছে:

রহস্যময় চিঠি নেতাজীর

অসঙ্গতি ১. চিঠিটি সর্বসমক্ষে আসে বহু বছর পর। এতো দিন কোথায় ছিল চিঠিটা?

২. চিঠিটি শরৎ বসুকে লেখা এক এবং একমাত্র বাংলা চিঠি। নেতাজি কোনোদিন তাঁকে বাংলায় চিঠি লিখতেন না।

৩. চিঠির উপরে কোনো মাঙ্গলিক চিহ্ন নেই কেন? নেতাজি চিরকাল গুরুজনদের চিঠি লেখার সময় মাঙ্গলিক চিহ্ন ব্যবহার করেছেন।

৪. চিঠির তারিখ ও স্থান চিঠির নীচে লেখা কেন? নেতাজি কোনোদিন চিঠির নীচে তারিখ বা স্থান লিখতেন না।

৫. ‘বিপদের পথ’ , ‘ইহ জীবনে আর কোনো সংবাদ দিতে পারিব না’ এরকম হতাশাব্যাঞ্জক কথা তিনি এই সময় কি করে তিনি ব্যবহার করতে পারেন? তখন তিনি নতুন উদ্যমে দেশের জন্য নতুন আশার বাণী শোনাচ্ছেন। তার এই সময়ের ভাষণ শুনলেই স্পষ্ট।

৬. স্ত্রী বা কন্যার নাম নেই কেন? এত গুরুত্বপূর্ণ খবর তিনি দাদাকে দিচ্ছেন, তাদের স্নেহ দেখাতে বলছেন,অথচ তাদের নাম ঠিকানা কিছুই দিলেন না। উনি যোগাযোগই বা করবেন কি করে!

৭. ভগবানের নিকট তাঁর শেষ ইচ্ছা নাকি তাঁর কন্যা অসমাপ্ত কাজ করবে! ১৯৪৩ এই তিনি শেষ ইচ্ছা কি করে বলছেন? তাঁর কাজ অসমাপ্ত থাকবে কি করে বুঝলেন? এতো হতাশা কি করে এলো? তখনো তাঁর আসল কাজই শুরু হয় নি! ভারতের স্বাধীনতা তাঁর শেষ ইচ্ছে হতে পারতো। সেই সময়ের বার্লিন বেতার ভাষণে তিনি এদিকে বলছেন ” আমাদের জয় নিশ্চিত। সময় আমাদের পক্ষে”!! চিঠির ভাষা আর এই বক্তব্য একদম উল্টো।

তার যাত্রা এতটাই গোপনীয় ছিল যে…

৮. চিঠির তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩। স্থান বার্লিন। এদিকে নেতাজি জার্মানির কিয়েল বন্দর থেকে ভোরবেলা U-Boat এ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩! তারিখ ও সময় শিশির বসুর এডিট করা আলেক্সান্ডার ওয়ার্থ এর বইতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখিত। বার্লিন থেকে কিয়েল ৭-৮ ঘন্টার যাত্রাপথ (৩৬০ কিমি দূরত্ব)। মধ্যরাতে চিঠি লিখেও সকালের মধ্যে কিয়েল গিয়ে সাবমেরিন চড়া সম্ভব নয়। সাবমেরিন যাত্রার একদিন আগেই তাঁর সেখানে পৌঁছে যাবার কথা। তাহলে কি তিনি চিঠি লিখতে গিয়ে তারিখ আর জায়গার নামও ভুল লিখলেন। কারণ ওইদিন তিনি বার্লিনে ছিলেন না। ঐ দিন কিয়েল থেকে সাবমেরিন চড়েছিলেন।

৯. ব্রিটিশরা যাতে তাঁর গতিবিধি না বুঝতে পারে তার জন্য তিনি মার্চ মাসেও (তখন তিনি সাবমেরিনে) জার্মানি থেকে তাঁর pre-recorded ভাষণ broadcast করার নির্দেশ দেন। তার যাত্রা এতটাই গোপনীয় ছিল যে তার সঙ্গী আবিদ হাসানকে সেদিন ভোরবেলা জানানো হয় তারা কোথায় যাচ্ছেন। ব্রিটিশরা কোনোভাবে জানতে পারলে সাবমেরিন নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করা হবে। এদিকে তিনি এতটাই careless যে একটা কাগজে লিখে গেলেন তিনি এশিয়াতে আসছেন!

নেতাজীর রহস্যময় চিঠি

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: