25 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
বাড়িরাজ্যকলকাতাহিন্দু ভোটের বিভাজন না করার জন্য বার্তা নরেন্দ্র মোদির

হিন্দু ভোটের বিভাজন না করার জন্য বার্তা নরেন্দ্র মোদির

আর কয়েকদিন বাদেই গোয়াতে ভোট শুরু হবে । যার জন্য একের পর এক রাজনৈতিক দলই চাইছে গোয়াতে নিজের জায়গা বানাতে । এই ভোট প্রচারে কাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গোয়ায় যান । সেখানে গিয়ে তিনি শুধু গোয়া নয় সাথে উত্তপ্রদেশের মানুষদের বার্তা দেন, “গোয়ায় হিন্দু ভোট বিভাজন করাই তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য”- তাদের কথায় কান না দিয়ে মানুষদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার কথা বলেন তিনি ।গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশে হিন্দু ভোটের বিভাজন আটকাতে প্রধানমন্ত্রী তৎপর হন। প্রতি8 হিন্দু ভোট বিজেপির বাক্সেই পড়ে সেটি নিশ্চিত করতে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের জনসভায় তৃণমূলকে নিশানায় আনেন প্রধানমন্ত্রী। গোয়াতে বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বক্তব্যের সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গোয়ায় এখন ভোট চলছে। কিন্তু আমি গোয়ার ভোটারদের জানাতে চাই যে প্রথম বার লড়তে আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এক নেত্রী সেখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণ হিসাবে জানিয়েছেন, হিন্দু ভোটকে ভাগ করতেই তাঁরা লড়াইয়ে নেমেছে।

গোয়ার নাগরিকদের হিন্দু ভোটের বিভাজন আটকানোর বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী

তৃণমূল ওই রাজ্যে মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সঙ্গে জোট করেছে। আর তৃণমূলের লক্ষ্যই হল হিন্দু ভোটকে বিভাজন ঘটিয়ে বিজেপিকে হারানো । বিষয়টি কমিশনের খতিয়ে দেখা দরকার ।’’বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়, সেই রাজ্যে হিন্দু ভোট তাঁদের দল অথবা গোমন্তক দল পেয়ে থাকে। তবে এই ভোটে ওই ভোটব্যাঙ্কে দখল বসাতে গোমন্তক দলের স্মরণে গেছেন বলে স্বীকার করেছেন মহুয়া মৈত্র । সেখানে তৃতীয় দল হিসাবে হিন্দু ভোটে ভাগ বসাতে পারে তৃণমূল সেই কারণেই সেখানে যাওয়া । তৃণমূল নেতৃত্বের মতে , যত পরিমানে হিন্দু ভোট ভাগ হবে ততই বিজেপি প্রার্থীর জেতার সম্ভবনা কমে আসবে । ঠিক একই নীতি তারা ভোটমুখী পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে । সেখানে অনেক আসন সংখ্যালঘু হলেও বিগত কয়েকটি ভোটে শুধু হিন্দু ভোট এক সাথে হবার ফলে বিজেপি জয় লাভ করে। তবে এবার বিরোধিতা মুখে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা । এই কারণেই কানপুরের জনসভা থেকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার ভোটার এবং গোয়ার নাগরিকদের হিন্দু ভোটের বিভাজন আটকানোর বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী ।

গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশে হিন্দু ভোটের বিভাজন রুখতে তৎপর প্রধানমন্ত্রী

আবার মহুয়া মৈত্র প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, ‘‘গেরুয়া সাহেবরা নিজেদের পছন্দ মতো সত্যকে পাল্টাতে পারদর্শী। কিন্তু আমি খুশি এমন ম্যাড়ম্যাড়ে ভ্যালেন্টাইন দিবসে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ট্রোল-সেনাকে উত্তেজিত করার জন্য কিছু বিষয় দিতে পেরেছি ।’’উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানায় আনেন । আসন্ন নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির হয়ে প্রচারে লখনউ সফর করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যাচ্ছে, এরপরে প্রধানমন্ত্রীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে তৃণমূল নেত্রী প্রচার করবেন। তার এই তৎপরতাকে বিজেপি ভালো ভাবে নিচ্ছেনা । গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশে হিন্দু ভোটের বিভাজন রুখতে তৎপর প্রধানমন্ত্রী ।যোগী আদিত্য নাথ বলেন, ‘‘বাংলা থেকে ব্যক্তিরা এসে এ রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। সেই কারণেই রাজ্যের মানুষদের সতর্ক করার প্রয়োজন ছিল। কারণ রাজ্যের মানুষ যে নিরাপত্তা, সম্মান পাচ্ছেন তা নষ্ট করতেই বাইরে থেকে লোক আসছে।’’পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বারংবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতৃত্ব সরব হয়েছেন ।

এই প্রসঙ্গে আদিত্যনাথ বলেন, ‘‘ওঁদের কাছে জানতে চাই বাংলায় কি শান্তিতে নির্বাচন হয়েছিল? সদ্য হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা হয়েছিল, বুথ লুট হয়েছিল । সেই রাজ্যে বিশৃঙ্খলা চরমে। একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল গত নির্বাচনে। ঠিক একই চিত্র দেখা গিয়েছে কেরলেও। যে পরিমাণ হিংসাত্মক ঘটনা ও রাজনৈতিক হত্যা ওই দুই রাজ্যে হয়ে থাকে তা কি দেশের অন্যত্র কোথাও হয়।’’ যোগীর সমস্ত কথা গোড়া থেকে খারিজ করে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, ‘‘যে রাজ্যে উন্নাও, হাথরসের মতো ঘটনা ঘটে, সেখানের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড়াই করা শোভা দেয় না। আর মা ফ্লাইওভারের ছবি ব্যবহার থেকেই স্পষ্ট যোগী রাজ্যে সত্যিকারের উন্নয়ন আদৌ কতটা হচ্ছে।’’ এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের পালা কবে শেষ হয় সেটাই দেখার ।

হিন্দু ভোটের বিভাজন না করার জন্য বার্তা নরেন্দ্র মোদির

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: