25 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
বাড়িরাজ্যকলকাতামশাবাহিত রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রনে নতুন উদ্যোগ কলকাতা পুরসভার

মশাবাহিত রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রনে নতুন উদ্যোগ কলকাতা পুরসভার

ধীরে ধীরে শীত বিদায় নিচ্ছে । এবং তারসাথেই বাড়ছে মশাবাহিত রোগের সম্ভাবনা। এই নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা।২০২১ শহরে ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়ায় বহু মানুষ আক্রান্ত হন । তারও আগের বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে কোরনা কালে ম্যালেরিয়া ডেঙ্গুর তেমন প্রকোপ দেখা যায়নি । পুর স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে কলকাতায় ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ায় ৭১৫ জন আক্রান্ত হন । দুই বছর পর, ২০২১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২৮৭। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ছয় গুন বেড়ে যায় ।যা অনেকটাই চিন্তার বিষয় ।চলতি মাসের ২ তারিখ মেয়র ফিরহাদ হাকিম ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের বাজেট ঘোষণা করেন ।

মশাবাহিত রোগ দূরীকরণে বরাদ্দ করা হয় ৩১ কোটি টাকা

সেই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ১৭০.০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে । সেখানে মশাবাহিত রোগ দূরীকরণে বরাদ্দ করা হয় ৩১ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে এই খাতে পুরসভা ২০ কোটি টাকা খরচ করেছিল। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ কোটি টাকা। জানা যাচ্ছে ,বমশা নিয়ন্ত্রণে পুরসভার ভেক্টর কন্ট্রোল বিভাগকে নতুন করে সাজানো হয়েছে । এন্টালিতে মশা নিয়ে গবেষণার জন্য ল্যাবরেটরি তৈরি করা হয়েছে । কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন করছেন বরাদ্দ টাকা বাড়িয়েও কেন এই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা।পুর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে বলা হয়েছে, ২০২০-তে কোরনা সংক্রমণ রুখতে সবজায়গায় জীবাণুনাশের কাজ চালানো হয় । সেই সময় ডেঙ্গু ম্যালেরিয়ার প্রকোপও ছিল না এর বরাবর।

পুর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২০২১ সালে ৫৯ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে শহরে ডেঙ্গু হয়েছিল ৬০০৭ জনের। ২০২১ সালে সেটি কমে দাঁড়ায় ২৪৪৯ জন। তবে , ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা গত বছর অনেকটা বেড়ে গেছে যা অনেকটাই চিন্তার । ২ তারিখ বাজেট বিবৃতিতে মেয়র ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি নিয়ে বলেন , ‘‘ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়টি ভাবনায় আছে। সম্ভাব্য কারণগুলি চিহ্নিত করে সমস্যা মেটানোর পথ বার করার চেষ্টা চালাচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।’’চিকিৎসকেরা বলছেন, প্লাসমোডিয়াম বর্গের এককোষী পরজীবীর মাধ্যমে এই ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে।

সবথেকে বিপজ্জনক প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম যার থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে । পুরসভা তরফে বলা হয় , গত বছর চার, পাঁচ, ছয় এবং সাত নম্বর বরো অর্থাৎ বড়বাজার, বৌবাজার,পোস্তা, গিরিশ পার্ক, কলেজ স্ট্রিট, এন্টালি,তালতলা, শিয়ালদহ,তপসিয়া, পার্ক সার্কাস, এসপ্লানেড, তিলজলা ও পার্ক স্ট্রিটের মতো নানান এলাকায় ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি ছিল । স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘সমীক্ষায় দেখা গেছে, ওই চারটি বরোয় অনেক পরিযায়ী শ্রমিক ফুটপাতে থাকেন। বেশির ভাগই মশারি ছাড়া ঘুমোন। এঁদের মধ্যে অনেকের ম্যালেরিয়া হলেও তাঁরা ওষুধের পুরো কোর্স করেন না। আমরা মানুষকে বার বার সতর্ক হতে বলছি।’’ তবে বরাদ্দ টাকা বাড়িয়েও কতটা ম্যালেরিয়া রোখা যাবে তা অনেকরই প্রশ্ন ।

মশাবাহিত রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রনে নতুন উদ্যোগ কলকাতা পুরসভার

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: