25 C
Kolkata
Sunday, October 2, 2022
বাড়িখেলাঅন্যান্যহকির জাদুকর "ধ্যানচাঁদ"

হকির জাদুকর “ধ্যানচাঁদ”

“হিটলার চেয়েছিলেন তাঁকে নাগরিকত্ব দিতে, আমরা ‘ভারতরত্ন’ই দিতে পারলাম না!” -সেটাই আফসোস।

ধ্যানচাঁদ ও অলিম্পিক

১৯২৮, ১৯৩২, ১৯৩৬— পর পর তিন অলিম্পিকে ভারত সোনা জেতে। ভারতের যেন স্বর্ণযুগ সে সময়! তার অন্যতম কারিগর ছিলেন ‘হকির জাদুকর’ ধ্যানচাঁদ

তিনি দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা অ্যাথলিট।

তাঁর মৃত্যুর ৩৭ বছর পরেও ধ্যানচাঁদের আক্ষেপ আজও পূরণ করতে পারিনি আমরা। ধ্যানচাঁদ একসময় দুঃখ করে বলেছিলেন, ভাই রূপ সিংহ এবং তাঁর নামে বার্লিনে রাস্তা রয়েছে, কিন্তু এ দেশে সে ভাবে তাঁরা গুরুত্ব পাননি।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ধ্যানচাঁদকে নিয়ে কিছু জানা-অজানা তথ্য

১.ধ্যান সিংহ থেকে ধ্যানচাঁদ হয়ে ওঠার একটা মজার গল্প আছে। ১৬ বছর বয়সে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। বেশির ভাগ সময় তাঁকে হকি প্র্যাকটিস করতে হত রাতের বেলায়। যখন জ্যোৎস্না রাতে হকি স্টিক নিয়ে একের পর এক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে চলতেন ধ্যানচাঁদ, তাঁর সতীর্থরা মুগ্ধ হয়ে দেখতেন। তখন থেকে সতীর্থরা তাঁকে ধ্যানচাঁদ নামে ডাকতে শুরু করেন।
আবার অনেকে বলেন, তাঁর প্রথম কোচ পঙ্কজ গুপ্তই নাকি প্রথম তাঁকে ধ্যানচাঁদ নাম দিয়েছিলেন।

২. ১৯২৮ আমস্টারডাম অলিম্পিকে ধ্যানচাঁদ সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। ১৪টি গোল করেছিলেন। ভারতের এত বড় সাফল্য নিয়ে এক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়, ‘এটি হকি ছিল না, জাদু ছিল। আর তার জাদুকর ছিলেন ধ্যানচাঁদ।’ মনে করা হয় সে থেকেই তিনি ‘হকির জাদুকর’ নামে পরিচিত হয়েছিলেন।

৩. দেশের হয়ে ধ্যানচাঁদ একাধিক বার সোনা দিয়েছেন। পূর্ব আফ্রিকায় খেলতে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সেরা ম্যাচ কোনটি জানেন? এক স্মৃতিচারণায় ধ্যানচাঁদ জানিয়েছিলেন, “কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার জীবনে সেরা ম্যাচ কোনটি? নির্দ্বিধায় বলব, ১৯৩৩-র বেটন কাপের ফাইনাল ম্যাচ, ক্যালকাটা কাস্টমস বনাম ঝাঁসি হিরোস।”

৪. ১৯৩২ অলিম্পিকে ভারত ২৪-১ গোলে আমেরিকাকে হারায়। জাপানকে হারিয়েছিল ১১-১ গোলে। এই দু’টি ম্যাচে ভারত মোট ৩৫টি গোল করেছিল। তার মধ্যে ধ্যানচাঁদ গোল করেছিলেন ১২টি। আর তাঁর ভাই রূপ সিংহ ১৩টি করেছিলেন। সে সময় তাঁদেরকে ‘হকি টুইন্স’ নামে ডাকা হত।

৫. এক দিন একটি ম্যাচে ধ্যানচাঁদ কোনও গোল করতে পারেননি। তিনি তখন ম্যাচ রেফারির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেছিলেন, ‘গোল পোস্টের মাপ ঠিক নেই।’ পরে দেখা গিয়েছিল ধ্যানচাঁদ ঠিক কথাই বলেছিলেন। আন্তজার্তিক হকির নিয়ম অনুযায়ী গোল পোস্টের মাপ ঠিক ছিল না।

৬. ১৯৩৬-এর বার্লিন অলিম্পিকে ভারত হকিতে প্রথম ম্যাচ জেতার পর জার্মানির বিভিন্ন পত্র- পত্রিকায় হেডলাইন হয়েছিল, ‘অলিম্পিক কমপ্লেক্স ম্যাজিক শো শুরু করেছে’। এমনকী, বার্লিন শহর পোস্টারে ঢেকে গিয়েছিল— ‘ভারতীয় ম্যাজিশিয়ান ধ্যানচাঁদের খেলা দেখতে হকি স্টেডিয়ামে আসুন’।

৭. এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার ধ্যানচাঁদকে ভারতরত্নে সম্মানিত না করতে পারলেও ৮০ বছরে আগে তাঁর জীবনের সেরা সম্মান এসেছিল অ্যাডলফ হিটলারের হাত ধরে। হিটলার তাঁকে জার্মান নাগরিকত্ব দিতে চেয়েছিলেন। এমনকী, জার্মান মিলিটারিতে তাঁকে সাম্মানিক পদ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

৮. ১৯৩৫ সালে অ্যাডিলেডে ধ্যানচাঁদের খেলা দেখতে এসেছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান। তাঁর খেলা দেখে তিনি মুগ্ধ। ব্র্যাডম্যান জানিয়েছিলেন, ‘ক্রিকেটে যে ভাবে আমরা রান নিয়ে থাকি, ধ্যানচাঁদ সে ভাবে গোল করেন।’

সেই ঐতিহাসিক মানুষটিকে আমরা একটা ভারত রত্ন দিতে পারলাম না , এটাই অবশেষে আফসোস রয়ে গেলো সারাজীবন ।।

হকির জাদুকর "ধ্যানচাঁদ"

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: