25 C
Kolkata
Sunday, December 4, 2022
বাড়িসম্পাদকীয়৬ ই আগস্ট । "হিরোশিমা দিবস", সেদিনের গণহত্যা

৬ ই আগস্ট । “হিরোশিমা দিবস”, সেদিনের গণহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদন- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে জাপানের হিরোশিমা শহরে ফেলা হয় বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট । তখনও ঘুম থেকে জেগে ওঠেনি হিরোশিমার মানুষ। সকাল ৮টা বেজে ১৫ মিনিট। হঠাৎই দানবের মতো হিরোশিমার আকাশের নীলিমায় উদয় হল মার্কিন বি টুয়েন্টিনাইন বোমারু বিমান এনোলা গ্রে। কল্পকথার আগুনমুখো ড্রাগনের মতো সেখান থেকে হিরোশিমার একটি হাসপাতালের ১ হাজার নশো ফুট ওপর বিস্ফোরিত হয় বিশ্বের প্রথম আণবিক বোমা লিটল বয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আণবিক বোমার বিষাক্ত ছোবলে মারা গেল ৮০ হাজার মানুষ। আহত হল আরও ৩৫ হাজার। ঘুমের মধ্যে মারা গেল নারী, শিশু, বৃদ্ধ, যুবা। মাটির সঙ্গে মিশে গেল বেশির ভাগ দালান-কোঠা। হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসার জন্য বেঁচে রইল খুব অল্পসংখ্যক চিকিৎসক ও সেবিকা। মুহূর্তের মধ্যে যেন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল ছবির মতো সুন্দর জাপানের ছোট্ট শহর হিরোশিমা। এখানেই শেষ নয় বছর না ঘুরতেই আণবিক বোমার ভয়াবহ তেজস্বক্রিয়তায় মারা যায় আরও ৮০ হাজার জাপানি। কেন চালানো হল এই হামলা ? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের আত্মসমর্পণের আহ্বানে জাপান সাড়া না দেওয়ায় তাঁর নির্দেশেই ঠান্ডা মাথায় হিরোশিমায় চালানো হয় নারকীয় এই হামলা। এর উদ্দেশ্যে ছিল দু’টি। এক হল জাপানিদের জব্দ করা, আরেক হল যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। এখনও সে দিনের সেই হামলার দু:সহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে হিরোশিমার মানুষ। আণবিক বোমা হামলার এত বছর পরও শহরে জন্ম নিচ্ছে বিকলাংগ শিশু, ক্যনসারসহ দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছে বহু মানুষ। হিরোশিমা দিবস এলেই তাই পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা –আর নয় যুদ্ধের নামে মারণাস্ত্রের ঝনঝনানি আর নয় কোনও ঠান্ডা মাথার হত্যাযজ্ঞ। যদিও পরিহাস এটাই যে , এখনও যখন যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়, তখন মনে করা হয়, আগামী বিশ্বযুদ্ধ হবে আণবিক যুদ্ধ। যদিও সেই যুদ্ধের বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সব পক্ষই।

৬ ই আগস্ট । “হিরোশিমা দিবস”, সেদিনের গণহত্যা

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: