25 C
Kolkata
Sunday, September 25, 2022
বাড়িপড়াশোনাজয়েন্ট বিডিওর চাকরি হেলায় ছেড়ে দিয়ে যোগ প্রাথমিক শিক্ষকতার

জয়েন্ট বিডিওর চাকরি হেলায় ছেড়ে দিয়ে যোগ প্রাথমিক শিক্ষকতার

ছিল সম্মানজনক সরকারি চাকরি,মালদার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন এতদিন ধরে তাঁর এমন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে চারিদিকে । স্কুল কলেজের চাকরি ছেড়ে সরকারি আধিকারিক হন অনেকেই। কিন্তু বামুনগোলার জয়েন্ট বিডিও কেন উল্টো পথে হাঁটলেন? শিক্ষকতার নেশা ছিল রক্তে এবার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকতার কাজে মন নিয়োগ চান মালদহের বামনগোলার জয়েন্ট বিডিও আশিস নায়েক ।

প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরি অনেক স্বস্তির

প্রাথমিক শিক্ষকরা বর্তমানে বেতন হিসেবে হাতে পান কম বেশি 33 হাজার টাকা। প্রশিক্ষণ বিহীনদের ক্ষেত্রে তার পরিমাণ আরও অনেকটাই কম। জয়েন্ট বিডিওদের বেতন শুরুতেই প্রায় 45 হাজার টাকা। তাঁদের পদোন্নতির সুযোগ ক্ষমতা প্রভাবপ্রতিপত্তিও একজন প্রাথমিক শিক্ষকের চেয়ে বেশি। তাহলে হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কেন ? ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি আশিসবাবু । বামনগোলার বিডিও রাজু কুণ্ডু বলেন বহুদিন ধরেই শিক্ষকতার চাকরির স্বপ্নই ছিল ওঁর বহু আগে সম্ভবত 2014 সালে পরীক্ষা দিয়েছিলেন ।

তখন নিয়োগ না’হওয়ায় জয়েন্ট বিডিও চাকরি পেয়ে তাতে যোগ দেন। এখন সেই সুযোগ আসায় তিনি কাজে যোগ দিতে পারছেন, প্রসঙ্গত 9 নভেম্বর জয়েন্ট বিডিওর পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বছর খানেক আগে কাজে যোগ দেওয়া আশিসবাবু। এ খবর পেয়ে যার,পর’নাই আনন্দিত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন যুগ্ম ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের পদ থেকে প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার জন্য তাঁকে স্বাগত জানাই। মালদহ জেলার বাম আমলের প্যানেল হাইকোর্ট বাতিল করেছিল।

তৃণমূল সরকার তা পুনরায় প্রকাশ করেছে। উনি সেই প্রার্থী তালিকার কিনা তা অবশ্য মানিকবাবু বলতে পারেননি। তিনি বলেন, এমনও হতে পারে, আগে নিয়োগপত্র পেলেও আগের চাকরি থেকে রিলিজ পেতে দেরি হওয়ায় তিনি এখন যোগ দিচ্ছেন। তবে, নিন্দুকদের একাংশ অবশ্য স্রেফ শিক্ষকতার নেশাকেই আশিসবাবুর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে দেখতে নারাজ। তাদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরি অনেক স্বস্তির। বাড়ির কাছে পোস্টিং মেলে। তা না পেলেও পরবর্তীতে আবেদনের মাধ্যমে বদলির সুযোগ থাকে। কাজের সময়ও অনেক কম। অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কারণে হয়তো চাপের মধ্যে থাকেন প্রশাসনিক পদাধিকারীরা।

জয়েন্ট বিডিও পদে থাকলে হয়তো তাঁর পেশাগত উন্নতি আরও

সেই তুলনায় প্রাথমিক শিক্ষকতার চাপ কিছুটা কম। ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি পিন্টু পাড়ুই বলেন, জয়েন্ট বিডিও পদে থাকলে হয়তো তাঁর পেশাগত উন্নতি আরও অনেক বেশি হত। তবে উনি শিক্ষার ভিত্তিমূলক স্তরে অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষায় ফিরছেন । তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না । জয়েন্ট বিডিও থাকাকালীন সুনামের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন আশিস নায়েক ।এটা একটা দারুণ ব্যাপার । তবে, এখন প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন আর যৎসামান্য নেই। আগের চেয়ে অনেকটাই বেশি। গুরুত্বও বেড়েছে। ভবিষ্যতে কেন্দ্রের সমতুল পে ব্যান্ডে পড়লে বেতন আরও বাড়বে। তাই আশিসবাবুর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত। তাঁকে সহকর্মী হিসেবে পেলে গর্বই হবে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ভবিষ্যতে তিনি নিশ্চয় সমাজের অনেক কৃতী সম্তান তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবেন। তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত।

জয়েন্ট বিডিওর চাকরি হেলায় ছেড়ে দিয়ে যোগ প্রাথমিক শিক্ষকতার

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: