25 C
Kolkata
Monday, December 5, 2022
বাড়িদেশ বিদেশআবাস যোজনায় ভুল তথ্য দিয়েছেন ? জেনে নিন কি রে ঠিক করবেন

আবাস যোজনায় ভুল তথ্য দিয়েছেন ? জেনে নিন কি রে ঠিক করবেন

অনেক মানুষ আছেন যারা চায় নিজের মাথার উপর পাকা ছাদ হোক। কিন্তু অনেক মানুষ আছে যারা টাকার অভাবে বা অন্যান্য কারণে এই স্বপ্ন সমস্ত পূরণ করতে পারেননা ।এই স্বপ্ন পূরণ করতে কেন্দ্রের একটি প্রকল্প আনা হয় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করলেই বাড়ি বানানোর জন্য টাকা দেবে সরকার। এবং সেই টাকা সরাসরি ঢুকবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে। তবে সমস্যা হলো নাম তোলার জন্য অনেকসময় পঞ্চায়েত বা পুরসভায় গিয়ে পরে থাকতে হয়। যার ফলে মানুষের অনেক সময় নষ্ট হয়। এই সমস্যার সমাধান করতে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। যার ফলে সময় বাঁচবে এবং কোনও সরকারি আধিকারিকের হাতে পায়ে ধরতে হবে না। ঘরে বসে স্মার্ট ফোন অথবা কম্পিউটারের মাধ্যমেই সেরে ফেলা যাবে গোটা প্রক্রিয়া। কিন্তু কিভাবে আবেদন করবেন এই আবাস যোজনা প্রকল্পে চলুন দেখে নেওয়া যাক।

অনলাইনে আবেদন করার আগে সে সব নিয়ে বসতে হবে ।প্রথম দরকার আধার কার্ড। এটা ছাড়া আবেদন করা যাবে না। আধার কার্ড স্ক্যান করে সেখনাই সাবমিট করতে হবে।আর লাগবে পাসপোর্ট ,ভোটার কার্ড,প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স। পরিচয়পত্রের প্রমাণ হিসেবে এগুলি লাগবে। আরেকটি লাগবে ইকোনমিকাল উইকার সেকশন সার্টিফিকেট। অর্থাৎ আপনি যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, সেটির প্রমাণপত্র। আবার এই সার্টিফিকেট তিন ধরনের হয়। প্রথম, যাঁদের আয় ৩ লক্ষ টাকা বা তার কম, তাঁদের ইডব্লিউএস বিভাগে ফেলা হয়। আবার যাঁদের আয় ৩ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ টাকা হয় তাঁরা পড়েন এলআইজি বিভাগে।এবং যাদের যায় ৬ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তারা মিডল ইনকাম গ্রুপ ১ বা এমআইজি ১ বিভাগের আওতায় ফেলা হবে। আর আয় ১২ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা হলে তা এমআইজি ২ বিভাগে পড়বে।

এই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আবেদন করার জন্য কয়েকটি নথিপত্র দরকার

গ্রাহক কতটা সরকারি সাহায্য পাবে, সেটা নির্ভর করবে গ্রাহক কোন বিভাগে পড়ছেন তার উপর।এই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আবেদন করার জন্য কয়েকটি নথিপত্র দরকার। আইটি রিটার্ন সার্টিফিকেট , প্রপার্টি ভ্যালুয়েশন সার্টিফিকেট । গ্রাহক যে জমিতে বাড়ি বানাতে চান, তার সমস্ত বিবরণ। এটি সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণে সাহায্য করে। লাগবে ব্যাঙ্ক ডিটেইলস। অর্থাৎ যিনি আবেদন করছেন, তাঁর নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। কারণ সরকারের পাঠানো টাকা সরাসরি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে।এবং গ্রাহকের যে পাকা বাড়ি নেই, তার সার্টিফিকেট বা প্রমাণপত্রও এতে লাগবে।

সর্ব প্রথম গ্রাহককে যেতে হবে ভারত সরকারের http://pmaymis.gov.in/ ওয়েবসাইটে।এর পর ‘মেনু বার’-এ গিয়ে ‘সিটিজেন অ্যাসেসমেন্ট’ অপশনে গেলে ‘অ্যাপ্লাই অনলাইন’ অপশনটি আসবে। ‘অ্যাপ্লাই অনলাইন’-এর আবার ৪ টি ভাগ আছে। ইন সিটু স্লাম রি ডেভলপমেন্ট বা এসএসআর, অ্যাফর্ডেবল হাউসিং ইন পার্টনারশিপ, বেনিফিসিয়ারি লিড কনস্ট্রাকশন/এনহ্যান্সমেন্ট (বিএলসি/বিএলসিই) এবং ক্রেডিট লিঙ্ক সাবসিডি স্কিম বা সিএলএসএস। যেহেতু নতুন বাড়ি তৈরির আবেদন করা হচ্ছে, তাই ‘ইন সিটু স্লাম রি ডেভলপমেন্ট বা এসএসআর বা অ্যাফর্ডেবল হাউসিং ইন পার্টনারশিপ এই দুটি অপশনের মধ্যে একটি বাছতে হবে। গ্রাহক যদি শহরের বস্তির বাসিন্দা হন, তা হলে ‘ইন সিটু স্লাম রি ডেভলপমেন্ট’ অপশন বাছতে হবে।

আবাস যোজনার আবেদনে কোনও ভুল তথ্য আছে, তা হলে তা ঠিক করারও ব্যবস্থা আছে

আর যদি গ্রামের বাসিন্দা হন, নিজের জমিতে বাড়ি তৈরি করতে চান, তা হলে অ্যাফর্ডেবল হাউসিং ইন পার্টনারশিপ বাছতে হবে।তারপর গ্রাহককে আধার কার্ডের নম্বর এবং আধার কার্ডে যে নাম আছে, সেটি বসাতে হবে।তা হলেই অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম বা আবেদনপত্রটি খুলে যাবে। এর পর সেখানে যাবতীয় তথ্য সঠিক ভাবে পূরণ করতে হবে।এর পর আসবে একটা ক্যাপচার। সেটা সঠিক ভাবে দিয়ে আবেদনপত্রটি জমা করতে হবে। এ বার জমা করা ফর্মটির একটি প্রিন্ট আউট বের করে গ্রাহক নিজের কাছে রাখবেন।যদি গ্রাহকের মনে হয় আবাস যোজনার আবেদনে কোনও ভুল তথ্য আছে, তা হলে তা ঠিক করারও ব্যবস্থা আছে। সিটিজেন অ্যাসেসমেন্টের ‘অ্যাপ্লাই অনলাইন’ অপশনের নীচেই আছে ‘এডিট অ্যাসেসমেন্ট ফর্ম’।

সেটাতে ক্লিক করলেই দু’ট বক্স আসবে। একটিতে অ্যাসেসমেন্ট আইডি এবং অন্যটিতে মোবাইল নম্বর। বক্স দুটোয় সঠিক তথ্য দিয়ে জমা দিলেই খুলে যাবে মূল ফর্ম। এ বার সেখানে যেটা ভুল হয়েছে, সেটা ঠিক করে পুনরায় আবেদনপত্রটি জমা করতে হবে।আবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ওয়েবসাইটে গিয়ে সিটিজেন অ্যাসেসমেন্ট অপশনে যেতে হবে।এখানে অ্যাপ্লাই অনলাইন, এডিট অ্যাসেসমেন্ট ফর্ম, প্রিন্ট অ্যাসেসমেন্ট ফর্ম এবং ট্র্যাক ইওর অ্যাসেসমেন্ট স্ট্যাটাস – এই চারটি এর পর ২টি বিকল্প গ্রাহকের সামনে আসবে। প্রথমটি হল, ‘বাই নেম, ফাদার্স নেম অ্যান্ড মোবাইল নম্বর’, দ্বিতীয়টি হল, ‘বাই অ্যাসেসমেন্ট আইডি’। গ্রাহক নিজের সুবিধে মতো যে কোনও একটা বেছে নেবেন ।এবার সেখানে সঠিক তথ্য দিয়ে সাবমিট করলেই গ্রাহক জানতে পারবেন গ্রাহকের আবেদনটি কত দূর আছে।

আবাস যোজনায় ভুল তথ্য দিয়েছেন ? জেনে নিন কি রে ঠিক করবেন

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: