25 C
Kolkata
Thursday, December 1, 2022
বাড়িরাজ্যজেলাবাবা অসুস্থ, পেটের দায়ে টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন হুগলির তরুণী

বাবা অসুস্থ, পেটের দায়ে টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন হুগলির তরুণী

সাধারণ মধ্যবিত্তদের সংসারে আর্থিক অনটন নিত্য সঙ্গী। আর যে সংসারে বাবা রোজগার করেন, তিনি অসুস্থ থাকেন তাহলে সেই সংসারের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পেটের দায়ে সংসারের হল ধরতে টোটো (Toto) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন এক তরুণী। হুগলির (Hooghly) ভদ্রেশ্বরের ওই তরুণীর নাম তমা দত্ত। ভদ্রেশ্বরের তমা শ্রীরামপুর কলেজের (Srirampur College) বাংলা অনার্সে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। জানা গিয়েছে, তমা এই জীবিকা বেছে নেওয়ার আগে থেকেই অভাব অনটন তাঁদের সংসারে ছিল। কিন্তু ওই সময় তমার বাবা কোনওরকমে সংসার চালাতেন। কিন্তু, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের একমাত্র আয়ের উৎস নষ্ট হয়ে যায়। একমাত্র আয়ের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কীভাবে সংসার চলবে তা ভাবতেই পারছিলেন না তাঁরা। তার মধ্যে করোনা মহামারীর সময় লকডাউনের সংসারের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

পড়াশোনার ফাঁকেই ওই তরুণী টোটো নিয়ে রাস্তায় বের হন

চাঁপদানী পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাড়িতে তমার মা, অসুস্থ বাবা, ভাই ও বোনকে নিয়ে বাস থাকতেন। এদিকে বাবার অসুস্থতা অন্যদিকে বাড়ি ভাড়া তার সঙ্গে পাঁচ জনের পেটতো আছেই। সেই সময় তমা সংসারের হাল ধরতে টোটো নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। পড়াশোনার ফাঁকেই ওই তরুণী টোটো নিয়ে রাস্তায় বের হন। রাত নটার পর সে তার মাকে নিয়ে চন্দননগর, ভদ্রেশ্বর, বৈদ্যবাটিতে ভাড়া খাটেন। সব বাধা অতিক্রম করে লাঞ্ছনার শিকার হয়েও পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে টোটো চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, “যে কোনও সময় টোটোটা আমি চালাতে পারি। তাই এটা থেকেই রুটি রুজির চেষ্টা করছি। কলেজ থেকে ফিরে এসে পড়তে যাওয়ার সময় টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। আমার বন্ধুবান্ধবরাও টোটোর টাকা দিয়ে দেয়। পার্ট টাইম ইনকাম করার জন্যই এই কাজ করা। আমার বাবা টিবি রোগী।

সেই কারণে সেভাবে কাজ করতে পারে না। এই সংসারটা আমার উপরই নির্ভর। আগে খাতা কলমের ব্যবসা করতাম। কিন্তু, করোনার সময় সব বন্ধ হয়ে যায়। সবজির ব্যবসা শুরু করি ভাই ও বাবার সঙ্গে। কিন্তু, মাল আনার সমস্যার কারণে ওই ব্যবসাও বেশিদিন চালানো সম্ভব হয়নি। তাই প্রথমে আমার স্কলাশিপের টাকা ও মায়ের গয়না বিক্রি করে পুরানো টোটো কিনি। এখন খারাপ হয়ে যায়। সারিয়ে মাঝে মধ্যে বাবা বাজারে ভাড়া খাটে। আমি একজনের কাছ থেকে আরও একটি টোটো ভাড়া নিয়ে চালাই। স্টেশন থেকে ভাড়া নিতে গেলেও সমস্যা করে অন্যান্য টোটো চালকরা। আমি এখন গাড়ি চালানো শিখছি। নিজের ইচ্ছা ছিল পুলিশ হওয়ার কিন্ত, এখন তা সম্ভব নয়। বাংলা অনার্স নিয়ে পড়ছি। মায়ের ইচ্ছায় যদি শিক্ষিকা হতে পারি। কিন্তু, আমার যা আর্থিক অবস্থা তার জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না।” উল্লেখ্য, পুলিশ হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও টাকার অভাবে তা সম্ভব নয়।

বাবা অসুস্থ, পেটের দায়ে টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন হুগলির তরুণী

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: