25 C
Kolkata
Thursday, December 1, 2022
বাড়িরাজ্যজেলাবাবা ফেরিওয়ালা, খড়গপুর আইআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েও বাঁধা সাজছে খরচ

বাবা ফেরিওয়ালা, খড়গপুর আইআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েও বাঁধা সাজছে খরচ

গরিবনা মতে খুব কষ্টে সংসার চলে ওদের। আর সেই কষ্টের সংসারে ছেলের পড়ার খরচ জোগাড় হবে কি করে সেই চিন্তায় নাভিশ্বাস পরিবারের কর্তার। বাঁকুড়ার (Bankura) শালতোড়ার বাসিন্দা কানাই কর্মকারের ছোট ছেলে ছোটন কর্মকার খড়গপুর আইআইটি (IIT Kharagpur) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। সেখানে ছোটন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করবে। কানাই কর্মকার পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। গ্রামের পথে পথে ঘুরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কোনও মতে তাদের সংসার চলে যায়। কিন্তু তার পক্ষে ছেলের পড়াশোনার এই বিপুল খরছে বহন করা মুশকিল। ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তির জন্য ১ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা জমা দিতে হবে।

আর কাউন্সেলিংয়ের জন্য ৩৫ হাজার টাকা। এই প্রসঙ্গে ছোটন জানিয়েছেন, ‘‘ভর্তির জন্য অনেক টাকা জোগাড় করা বাকি। সরকারি সাহায্য পেলে ভাল হয়।’’ ছেলের পড়াশোনার খরচের দুশ্চিন্তায় কানাই বাবুর কপালে চিন্তার ভাঁজ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা তেমন লেখাপড়া জানি না। আইআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছে ছেলে। কিন্তু সেখানে পড়ার খরচ কেমন, তা-ই জানি না। পাড়াপ্রতিবেশীরা বলছেন, ‘খরচ অনেক।’ কী ভাবে সে টাকার জোগান দেব, ভাবলেই রাতের ঘুম উড়ে যাচ্ছে।’’ প্রসঙ্গত, আর্থিক অনটনের জন্য কানাই বাবু তার বড় ছেলেকে পাড়াতে পারেননি। তাকে মাঝপথে পড়া ছাড়তে হয়েছে।

ছোটো ছেলে ছোটোবেলা থেকে মেধাবী। পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ দেখে শত কষ্টেও তাতে বাধা দেননি মা-বাবা। গ্রামের স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর বাঁকুড়া শহরের একটি স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে ভর্তি হন ছোটন। সেখান থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর শুরু হয় জেইই মেইন এবং অ্যাডভান্স পরীক্ষার প্রস্তুতি। পরীক্ষায় বসে জেইই মেইন এবং অ্যাডভান্স পরীক্ষার মেধাতালিকায় উপরের দিকে জায়গা করে নেন ওই যুবক। এই প্রসঙ্গে ওই যুবক বলেন, “এত বড় একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান! স্ট্রাগল না করলে কি চান্স পাওয়া যায় বলুন? আমিও অবশ্য অনেক স্ট্রাগল করেছি। দিন-রাত এক করে পড়াশোনা করেছি!”

বাবা ফেরিওয়ালা, খড়গপুর আইআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েও বাঁধা সাজছে খরচ

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: