25 C
Kolkata
Sunday, September 25, 2022
বাড়িস্বাস্থ্যধনুকের মতো বাঁকা পা একেবারেই সোজা করলেন পিজি হাসপাতালের চিকিৎসকরা

ধনুকের মতো বাঁকা পা একেবারেই সোজা করলেন পিজি হাসপাতালের চিকিৎসকরা

নিজস্ব প্রতিবেদন- গরিব দর্জি পরিবারের বাচ্চা মেয়েটির লড়াইয়ের সূত্রপাত সেই ছোট্টবেলায়। বয়স সাড়ে ছয় মাস। খাট থেকে পড়ে তার বাঁ পা ভেঙে যায়। দু’বছর বয়সে ভাঙে ডান পা। তারপর থেকে সময় যতই গড়ায়, একবার পা জোড়া লেগেছে, ফের ভেঙেছে। চিকিৎসকরা সন্দেহ করতে আরম্ভ করেন।

তারা সন্দেহ করেন, এটা বোধহয় সেই বিরল জিনগত হাড়ভাঙা রোগ, যা হয় প্রতি কুড়ি হাজার মানুষে একজনের— ‘অস্ট্রিয়জেনিক ইম্পারফেক্টা’। এই রোগের চারটি পর্যায় রয়েছে। যত উপরের পর্যায়ে, অর্থাৎ দেরিতে এর চিকিৎসা শুরু করা হয়, রোগীর জীবনশক্তিও ততই কমে।

এরপরে এই হাসপাতাল সেই হাসপাতাল, এই ডাক্তার সেই ডাক্তারের কাছে ঘুরে শেষমেষ এবছর জানুয়ারিতে পিজিতে প্রথম সরকারিভাবে জানানো হয়, এটা সেই বিরল হাড়ভাঙা রোগই। ভাঙবে, জুড়বে, ফের ভেঙে যাবে। হাড়গুলিই যে ভঙ্গুর! আর এরকম হতে হতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উত্তর কারবালার ১০ বছরের সাবিনা ইয়াসমিনের বাঁ পা হয়ে যায় পুরো ধনুকের মতো বাঁকা।

ডান পাও বেঁকে গিয়েছিল, কিন্তু বাঁ পায়ের মতো নয়। দৌড়াদৌড়ি করতে পারত না। খেলতে পারত না বন্ধুদের সঙ্গে। ক্লাসে সহপাঠীদের টিটকিরি তো ছিলই, মাস্টারমশাইদের একাংশও বিরক্ত হয়ে উঠছিলেন। বরাবর ক্লাসে প্রথম হওয়া ছাত্রীটি তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

পিজির চিকিৎসকরা: আমার জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং কাজ

অবশেষে দু’দফায় অপরেশন করে চোখে জল আনা সেই ধনুকের মতো বাঁকা বাঁ পা সোজা করলেন পিজির চিকিৎসকরা। যিনি এই অপারেশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অর্থোপেডিক বিভাগের অধ্যাপক সেই ডাক্তার আনন্দকিশোর পাল শুক্রবার বলেন, আমার জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং কাজ এটি। কপাল ভালো যে ওর ক্ষেত্রে রোগটি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের মধ্যবর্তী সময়ে রয়েছে। লম্বা সময় লেগেছে ওটিতে। টাইটানিয়াম রড ঢুকিয়ে পা সোজা করা হয়েছে। প্লাস্টার-সেলাই কেটে আমরা দেখেও নিয়েছি। আমার-আপনার পায়ের মতোই সোজা হয়ে গিয়েছে। লকডাউনের জন্য ডান পায়ের অপারেশন বাকি আছে। ওই সময়ে বাঁ পায়ের রডটা বের করে নেব। নিশ্চিতভাবে ও হাঁটতে পারবে।

সাবিনার মা খাদিজা বিবি বলছিলেন মেয়ের লড়াইয়ের কথা। বললেন, বিশ্বাস করবেন না অপারেশনের পর থেকে সোজা হয়ে যাওয়া পায়ের কী যত্নই না নিচ্ছে ও! বাড়িতেই ওকে পড়াই। বলি, শুধু কাঁদলে কিছু হবে না। লড়ে জিততে হবে তোকে। আর ডাক্তারবাবুদের বলি, যতদিন বাঁচব আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।

ধনুকের মতো বাঁকা পা একেবারেই সোজা করলেন পিজি হাসপাতালের চিকিৎসকরা:

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: