25 C
Kolkata
Sunday, September 25, 2022
বাড়িরাজনীতিটুইট অ্যাকাউন্ট থেকে ধনকড়কে ব্লক মুখ্যমন্ত্রীর

টুইট অ্যাকাউন্ট থেকে ধনকড়কে ব্লক মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্য রাজ্যপাল সংঘাত নতুন কিছু নয় । রাজ্যপাল পদে শপথ নেবার পর থেকেই রাজ্যসরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন । এবং তাতেই বারংবার অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী সহ বাকি মন্ত্রীরা । এবার সেই কারণেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে টুইটারে ব্লক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কাল নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি নিজেই এই কথা জানালেন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ আমি আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । উনি প্রতিদিন আমাকে, অফিসারদের গালাগালি করেন । উনি আমাদের শুধু আদেশ দেন, পরামর্শ নয়। একজন সিলেক্টেড লোক হয়ে দিনের পর দিন এই কাজ করে যাচ্ছিলেন । ওনার টুইট দেখে আমার ভালো লাগত না । আমরা যেন ওনার চাকর বাকর , বন্ডেড লেবার ! ফলে এদিন বাধ্য হয়ে আমি টুইট অ্যাকাউন্ট থেকে ওনাকে ব্লক করে দিয়েছি।

 মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন ওনার টুইট দেখে আমার প্রতিদিন খারাপ লাগত

” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন , ” ওনার টুইট দেখে আমার প্রতিদিন খারাপ লাগত । যে কথা বলা ঠিক নয়, সেগুলি তিনি বলতেন । অমানবিক কথাবার্তা বলতেন । আমি তাই বাধ্য হয়েছি ব্লক করে দিতে । আমি প্রধানমন্ত্রীকে এই নিয়ে ৪ বার চিঠি লিখেছি । কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। আমাদের অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছেন। যখন তখন ডাকছেন । উনি এগুলো করতে পারেন না। সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক কাজ। তাও করছেন। উনি সরাসরি ভয় দেখাচ্ছেন,এভাবে চলতে পারে না ।”মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তিনি শুনেছেন রাজ্যপাল আদালত থেকে শুরু করে, ইনকাম ট্যাক্স, কলকাতা সিপি, কলকাতা ডিডি, ডিএম, এসপি, মুখ্য সচিব সবাইকে ভয় দেখাচ্ছেন । তিনি আরও বলেন , “এভাবে চলতে পারে না। আমি কেন্দ্র সরকারকে বারবার বলেছি।

নিজে গিয়ে কথা বলে এসেছি । পরে বলবেন না যে, আমি জানাইনি ।” সিপিএম আমলের কথা তুলে বলেন, “জ্যোতি বসুর আমলে ধরমবীরাকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন । কারণ , তিনি দু একটা ফাইল আটকে রেখেছিলেন। আমরা গত এক দেড় বছর ধরে সহ্য করে চলেছি । এখনও আমাদের লোকায়ত কমিটির চেয়ারম্যান, হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি, হিউম্যান রাইটসের এক সদস্যের একজনের ফাইল ক্লিয়ার করেননি । হাওড়া ও বালির ফাইল ক্লিয়ার করেননি । উনি এগুলো কেন করছেন ? একের পর এক ফাইল আটকে রেখে দিয়েছেন ।”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘”সংবিধান আমরাও পড়ে আসছি ক্লাস এইট নাইন থেকে। রাজ্যপাল বিধানসভায় আসবেন, ছবি তুলবেন, বিলে সই করবেন। কোনও সমস্যা হলে জানাবেন ।

মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিশানায় এনে বলেন আমি প্রধানমন্ত্রীকে চারটি চিঠি দিয়েছি

এটাই তো নিয়ম । প্রতিটি বিল আটকে দিয়েছেন । আর ওনার প্রশ্রয়ে বিজেপির কিছু গুন্ডা লোককে খুন করছে । পরশুদিন নোয়াপাড়ায় আমাদের এক কর্মী খুন হয়েছেন । আগামী দিন এই নিয়ে মানুষ, বিধানসভা ও সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে ।” এরপর মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিশানায় এনে বলেন , “আমি প্রধানমন্ত্রীকে চারটি চিঠি দিয়েছি । তারপরও কেন তাঁকে প্রত্যাহার করা হল না ? নিয়ম হল রাজ্যপালকে নিয়োগের সময় রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করতে হয় । কিন্ত তা করেননি। তারপরও আমরা রাজ্যপালকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম । উনি তো মা ক্যান্টিন নিয়ে হিসাব চাইছেন । তাহলে উনি যে, তাজ বেঙ্গল থেকে খাবার আনেন, সেই বিল বের করব ?” এই রাজ্য রাজ্যপাল সংঘাত কবে শেষ হয় সেটাই দেখার । এবং পরবর্তীকালে এর কি প্রভাব পড়ে সেটাও দেখার বিষয় ।

টুইট অ্যাকাউন্ট থেকে ধনকড়কে ব্লক মুখ্যমন্ত্রীর

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: