25 C
Kolkata
Monday, November 28, 2022
বাড়িরাজ্যহাঁসখালি ধর্ষন মামলার ভার এবার CBI এর হাতে তুলে দিলো কলকাতা হাইকোর্ট

হাঁসখালি ধর্ষন মামলার ভার এবার CBI এর হাতে তুলে দিলো কলকাতা হাইকোর্ট

এবার CBI হাঁসখালি ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তভার হাতে । আজ জেলা পুলিশের তরফ থেকে FIR কপি সংগ্রহ করবে CBI তদন্তকারীরা। হাঁসখালি গণধর্ষণকাণ্ডে রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা ছিল না বলে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সুস্মিতা সাহা সমেত কয়েকজন মহিলা আইনজীবী। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। গতকাল এই মামলার শুনানি ছিল। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর, প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। হাঁসখালি ঘটনায় তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ। মূল অভিযুক্ত অর্থাৎ প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ছেলেকে গত রবিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার আরও এক জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হাঁসখালি ঘটনায় এলাকার এক ডাক্তার ও শ্মশান কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। হাঁসখালি ঘটনায় এলাকার এক ডাক্তার ও শ্মশান কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠছে। রবিবার রাতে নিজের মেয়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সময় স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন তার মা। সেই ডাক্তারের সঙ্গেও কথা বলতে চান তদন্তকারীরা। পুলিশের বলছে, চিকিৎসক নিশ্চই রোগী দেখে বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর সঙ্গে কী ঘটনা ঘটেছে। তারপরও তিনি কেন রোগীকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন এবং কেন তৎক্ষণাৎ রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেননি। এবং কেনই বা পুলিশকেও গোটা বিষয়টি জানাননি। তাহলেও কি তিনিও এই ঘটনার সাথে যুক্ত? এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে শ্মশান কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্যাতিতার মায়ের কথা অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর রাতে যখন তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয় তখন পাড়ার কয়েকজন ছেলে তাঁদের বাড়িতে আসে । কিন্তু তাঁরা কীভাবে এই খবর পেলেন, সেটাও নির্যাতিতার বাড়ির লোকের কাছে স্পষ্ট নয়। মেয়ের এমন পরিণতিতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাবা মা। এমন সময় সেই পাড়ার ছেলেরাই সাহায্যের নামে এসে তৎপরতার সঙ্গে নাবালিকার সৎকার্য করতে উদ্যত হন। পরিবারের অভিযোগ তাঁরাই দেহ নিয়ে শ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নাবালিকার বাড়ির হাফ কিলোমিটারের মধ্যে একটি শ্মশান আছে। সেখানেই নাবালিকার কোনও ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া দাহ করা হয় দেহ। শুধু তাই নয় আগুন নিভিয়ে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয় ছাইও। ঘটনার রাতেই শ্মশানের এলাকা পুরো পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। রবিবার সকালে শ্মাশানে গিয়ে কারোরই দেখা পাওয়া যায়নি। এমনকি শ্মশান কর্তৃপক্ষেরও প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।

হাঁসখালির গণধর্ষণ কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ায় সোনা যায়

হাঁসখালির গণধর্ষণ কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ায় সোনা যায় , “পুলিশ এখনও বিষয়টাই জানতে পারেনি। এই যে বারবার দেখাচ্ছে, একটা বাচ্চা মেয়ে নাকি মারা গিয়েছে রেপড হয়ে। আপনি রেপড বলবেন? নাকি প্রেগন্যান্ট বলবেন? না লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবেন? এটা ইনকোয়ারি করেছেন কি? আমি পুলিশকে বলেছি এটা।” এই ঘটনার তীব্রনিন্দা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন অভিযুক্তের সঙ্গে ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না তাও দেখতে। হাইকোর্ট সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে CBI তদন্তের নির্দেশ দেয়। স্থানীয় পুলিশকে তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত রিপোর্ট সিবিআই আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সব অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদেরকেও জেরার জন্য সিবিআই এর হাতে তুলে দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ২ মে। তখনই আরও বিস্তারিত ভাবে আসল ঘটনাটি জানা যাবে।

হাঁসখালি ধর্ষন মামলার ভার এবার CBI এর হাতে তুলে দিলো কলকাতা হাইকোর্ট

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: