25 C
Kolkata
Monday, December 5, 2022
বাড়িসম্পাদকীয়করোনা ভাইরাস এর জন্ম কাহিনী...

করোনা ভাইরাস এর জন্ম কাহিনী…

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯.
‘চিন’ দেশের “উঁহ্হান ( Wuhan)” শহরের, “মিউনিসিপাল হেল্থ কর্পোরেশন”, ঘোষনা করল,
একটি নতুন তথ্য। ২৭ জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে হঠাৎ করে, যাঁরা “নিউমোনিয়া” জাতীয় রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এবং যাঁদের “নিউমোনিয়া”রোগটি, ঠিক কোন্ জীবাণুর কারণে হয়েছে, এখনো ধরা যায়নি। এঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

করোনা ভাইরাস : উঁহ্হানের সী ফুড হোলসেল মার্কেটের

তথ্যটি চমকপ্রদ। তবে তার চাইতেও চমকপ্রদ হলো, আরেকখানি ইনফর্মেশন।
এই সাতাশ জনের প্রায় সকলেই “উঁহ্হানের সী ফুড হোলসেল মার্কেটের” সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত।
হয় তাঁরা সেখানে কাজ করেন, নাহয় তাঁরা সেই মার্কেটের খরিদ্দার, আর নয়তো এইরকম কোনো মানুষের আত্মীয় পরিজন।
এ কয়টি তথ্য, স্বাস্থ্য বিশারদদের কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। হোক না রোগীর সংখ্যা মোটে সাতাশ। কিন্তু,
১. তাঁদের রোগের জীবাণুটিকে এখনো চেনা যায়নি।
২. সক্কলেই একটি কমন লিংক/সোর্স দেখাচ্ছেন ( সী ফুড হোলসেল মার্কেট)।
পদক্ষেপ নেওয়া হলো তড়িঘড়ি। নতুন বছরের প্রথম দিনেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলো মার্কেটটিতে।
‘আইসোলেশন’ অর্থাৎ জনগণের থেকে আলাদা করে দেওয়া হলো সাতাশ জনকেই।
রাখা হলো হাসপাতালের স্পেশাল ওয়ার্ডে। এবং তারই সাথে জোরদার ভাবে খোঁজ শুরু হলো, এই জাতীয় আর কোনো নতুন রোগীর সন্ধান পাওয়া যায় কি না।
সন্ধান মিললো দ্রুত। পাঁচই জানুয়ারির হিসাব বলছে,– আরো বত্রিশ জনের খোঁজ পাওয়া গেছে। যাঁদের রোগের উপসর্গ ( কাশি, জ্বর, নিঃশ্বাসের কষ্ট)
যা শুরু হয়েছে ১২ থেকে ২৯শে ডিসেম্বর ২০১৯ নাগাদ।
অর্থাৎ, এই রোগীরা এতদিন ঘাপটি মেরে বাড়িতে বসেছিলেন।
মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২+২৭=৫৯
যাঁদের কারোরই রোগের জীবাণুটি ধরা যাচ্ছে না এখনও।
এবং এই ছয়দিনে স্বাস্থ্যকর্মীরা মোটামুটি নিশ্চিত যে, এটি অজানা, অদেখা কোনো ভাইরাস অথবা ব্যাকটেরিয়ার কান্ড।
প্রথম জয় এলো নয় তারিখে। নাইন্থ জানুয়ারি, ২০২০।

সিডিসি ( সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ), সারা পৃথিবীর সামনে ঘোষণা করলো, ৫৯ জনের মধ্যে ১৫ জনের শরীরে পাওয়া গেছে নতুন প্রজাতির করোনা ভাইরাস। ( 2019 -nCoV )। ২০১৯ নোভেল করোনা ভাইরাস। দশই জানুয়ারি, যে ভাইরাসের ‘জিনোম সিকুয়েন্স’ তুলে ধরা হলো সমগ্র বিশ্বের সম্মুখে। আর সমস্ত স্বাস্থ্যবোদ্ধারা অবাক হয়ে দেখলেন– নতুন শত্রুর খোলনলচে। এর ঠিক একদিনের মাথায় ঘটলো প্রথম পরাজয়। প্রথম মৃত্যু ঘটলো এই নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। তারপর ষোলই জানুয়ারি, আরো একজনের।

এবং শেষ খবর পাওয়া অব্দি, এই রোগ আর শুধু চিনদেশের “উঁহ্হান শহরে” সীমিত নেই। সারা পৃথিবী জুড়ে মোট প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। মারা গেছেন, ১১,০০০ জন..
ভারতবর্ষে, ৩৪১ জন আক্রান্ত, আর মারা গেলেন ৭ জন…

১২ ই জানুয়ারী ২0২0 নামকরণ করা হয়েছে যে ভাইরাসের —

“SARS-CoV-2”.

[ সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনা ভাইরাস ২।]

কেন ২? কেন ১ নয়?

২০০৩ সালে ঠিক এইরকমই একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেটিরও শুরুয়াৎ চিনদেশে।

অনেকেই তাকে চেনেন “সার্স” নামে।

“সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম।”

বা, “SARS ।”

মজার বিষয় একটাই। প্রায় সকল সাধারণ জনতাই ভুলে মেরে দিয়েছেন যে, এই সার্স রোগটিও হয়েছিল করোনা ভাইরাসের কারণেই।

তবে সেই ভাইরাসের ‘জিনোম’-এর গঠন ( খোল নলচে) ছিল কিছুটা আলাদা।

এই ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল বাদুড়ের মাধ্যমে। বাদুড় থেকে রোগ ছড়ায় ভাম জাতীয় বিড়ালে। তারপর সেখান থেকে অন্যান্য জীব জন্তুতে। যেমন ব্যিভার বা রেকুন। চিনদেশে ব্যিভার এবং রেকুন নামের প্রাণীরা খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। সেখান থেকেই ছড়িয়ে যায় মানুষের মধ্যে। ছড়ায়, এই সব প্রাণীদের কাটাকুটি করতেন যাঁরা, সেইসব কসাইদের মাধ্যমে। মাংসের মাধ্যমে নয়। হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়াতো এই রোগ। এই করোনা ভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছিল

“SARS-CoV-1.”

এ যাত্রায় তাই নাম দেওয়া হলো

“SARS-CoV-2.”

কারণ এই করোনা ভাইরাসের গঠন, পূর্বতন ভাইরাসের থেকে পৃথক।

দয়া করে চিন দেশকে গালি দিতে বসবেন না। চিৎকার শুরু করবেন না
মাথায় রাখবেন আমাদের প্রিয় গরু/ গাউমাতা-র শরীরেও টিবি ব্যাকটেরিয়া ( অ্যাটিপিক্যাল) বসবাস করে।

“করোনা” নিজের এবারের যাত্রা, কোথায় গিয়ে শেষ করবে, বোঝা যাচ্ছে না.. তবে ২০০৩ এর “SARS” এর থেকে, অনেক দুর্বল ভাইরাস কিন্তু, এবারের “করোনা ভাইরাস”…
ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন..

তথ্য ঋণ–“ডক্টর সব্যসাচী সেনগুপ্ত” , ও “WHO” ( ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন)..

সংযোজন ও সম্পাদনা
“অতনু সেন”..

করোনা ভাইরাস এর জন্ম কাহিনী…

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: