25 C
Kolkata
Friday, February 3, 2023
বাড়িরাজনীতিগোরু পাচার ছাড়াও আরও পাঁচটি উপায়ে টাকা আয় করতেন অনুব্রত মণ্ডল

গোরু পাচার ছাড়াও আরও পাঁচটি উপায়ে টাকা আয় করতেন অনুব্রত মণ্ডল

বীরভূমের (Birbhum) তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) ও তাঁর আত্মীয়দের নামে এখনও পর্যন্ত ১৬২ টি সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে তদন্তকারী গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে বহু বেনামি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। সিবিআই (CBI) তদন্তকারী আধিকারিকরা মনে করছেন, গোরু পাচারের (cow smuggling) টাকা ছাড়াও এই বিপুল সম্পত্তির পিছনে আরও একাধিক ক্ষেত্র থেকে অবৈধ উপায়ে হাতানো টাকাও রয়েছে। সূত্রের খবর, গোরু পাচার ছাড়াও বালি, টেন্ডার, টোল, পাথর, জমি এই সবের মাধ্যমে অনুব্রতর কাছে টাকা পৌঁছাত। এই বিষয়ে প্রকাশ্যে অনেকে মুখ না খুললেও, বীরভূমের আনাচ-কানাচ থেকে এই কথা শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গোটা বীরভূমে জুড়ে অনুব্রত মণ্ডলের নামে ভয় দেখিয়ে জমি দখল, দখলি জমি বিক্রির যে তথ্য এবং অভিযোগ সামনে আসছে, তা চোখ কপালে ওঠার মতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প দামে লোকের জমি হাতিয়ে নেওয়া, মাঠ দখল, দেবত্ব সম্পত্তি দখল করে বিক্রি, খাস জমির ভুয়ো কাগজপত্র বানিয়ে বিক্রি করে দিয়েও অনুব্রত কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে। বীরভূমে যে কটি বৈধ পাথর খাদান রয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি অবৈধ পাথর খাদান রয়েছে। বৈধ পাথর খাদান থেকে যতটা পরিমানে পাথর তোলা হত, তার থেকে বেশি অবৈধ পাথর খাদান থেকে পাথর তোলা হত বলেই অভিযোগ। জানা গিয়েছে, অবৈধ পাথর খাদানগুলির বেশির ভাগ অনুব্রত ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডল নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার মাধ্যমেই ওই টাকা অনুব্রতর কাছে পৌঁছাত। অন্যদিকে বীরভূমের যে সকল বৈধ বালিঘাটের থেকে বালি উত্তোলন করা হয়, সেই বৈধ বালিঘাটের মালিকদের থেকে মাসে দেড় লক্ষ টাকা তোলা নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। বীরভূমে বৈধ ঘাট ছাড়াও অসংখ্য অবৈধ ঘাট রয়েছে।

এমনকি প্রতিদিন বিভিন্ন গাড়ি থেকে যে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা আদায় করা হত

একইসঙ্গে অবৈধ যত ঘাট থেকে বালি উত্তোলন হয়, সেই বালির লভ্যাংশের ৭০ শতাংশ যেত অনুব্রত কাছে। বাকি ৩০ শতাংশ বালি মাফিয়ারা পেতেন। উল্লেখ্য, অনুব্রত মন্ডলকে সিবিআই গ্রেফতার করার পর থেকেই জেলা পরিষদের নামে চলা একটি টোল বন্ধ করেছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, ওই টোলটি বেআইনিভাবে চলছিল। জেলা পরিষদ বা বোলপুর পুরসভার ১০, ২০, ৫০, ১০০, ১৫০, ২০০ টাকার ছাপানো কুপনের মাধ্যমে বিভিন্ন গাড়ি থেকে টোল আদায় করা হত। দীর্ঘ দিন ধরে অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি অধিকাংশ টোলের বরাত পান। সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি অংসখ্য বালিঘাট চালান। এমনকি প্রতিদিন বিভিন্ন গাড়ি থেকে যে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা আদায় করা হত, তার একটি বড় অংশ-ই অনুব্রতর কাছে পৌঁছত বলে অভিযোগ।

গোরু পাচার ছাড়াও আরও পাঁচটি উপায়ে টাকা আয় করতেন অনুব্রত মণ্ডল

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: