25 C
Kolkata
Thursday, December 1, 2022
বাড়িদেশ বিদেশপেট্রোল ডিজেলের পর এবার দাম বাড়ছে অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধের !

পেট্রোল ডিজেলের পর এবার দাম বাড়ছে অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধের !

র্যন্ত টানা ৫ দিনই দাম বেড়েছে পেট্রল এবং ডিজ়েলের। গতকাল কলকাতায় ইন্ডিয়ান অয়েলের পাম্পে লিটার প্রতি পেট্রলের দাম ৫২ পয়সা বেড়ে ১০৮.৫৩ টাকা হয়েছে । ৫৬ পয়সা বেড়ে ডিজ়েল বিক্রি হবে ৯৩.৫৭ টাকায়। তবে এটাই শেষ নয় । সূত্রের দ্বারা খবর, আগামী পয়লা এপ্রিল থেকে প্রায় সাড়ে আটশোটি অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বাড়ছে। এর মধ্যে আছে সাধারণ জ্বর-ব্যথার ওষুধ প্যারাসিটামল। আবার পেট খারাপের ওষুধ এমনকি গ্যাসের ওষুধেরও একটা বড় অংশ আছে এই তালিকায়। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি-ইনফেকটিভ, রক্তাল্পতা, হৃদ্‌রোগ এবং ত্বকের কিছু ওষুধও এই তালিকার মধ্যে পড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সার ও রসায়ন মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটির পক্ষ থেকে প্রকাশি একটি বিজ্ঞপ্তির পর এই সমস্ত ওষুধ দাম প্রায় ১০.৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ছাড়পত্র পেতে চলেছে নির্মাতা সংস্থাগুলি। প্রাইসিং অথারিটি বলছে, যে সব ওষুধ আমরা ব্যবহার করি, তার ৮৫ শতাংশের দাম প্রতি বছরে মোটামুটি ১০ শতাংশ করে বাড়ানোর ছাড়পত্র নির্মাতা সংস্থাগুলিকে দেওয়াই থাকে।

প্রতি বছর পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম নির্ধারণ করে দেয় এনপিপিএ। গতকাল সেই সংক্রান্তই একটি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়, ‘‘শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের অর্থনৈতিক উপদেষ্টার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হারের সূচকে ২০২০ সালের অনুরূপ সময়ের তুলনায় ১০.৭৬ শতাংশ পরিবর্তন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওষুধের দাম নির্ধারণ সংক্রান্ত ২০১৩ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে বলা হচ্ছে।’’ ২০১৯ সালে কেন্দ্র পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির সূচকের পরিবর্তন অনুযায়ী নির্মাতা সংস্থাগুলিকে অত্যাবশ্যক ওষুধ দাম প্রায় ২ শতাংশ বাড়ানোর ছাড়পত্র দিয়েছিল। ২০২০ সালে সেটি বাড়ানো হয়েছিল ০.৫ শতাংশ। সেই অনুযায়ী এবার এক লাফে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ছাড়পত্র দেওয়া হল। একটি ওষুধ নির্মাতা সংস্থার এক কর্তা জানান, “পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বিষয়টি সম্পৃক্ত, কারণ ওষুধ তৈরির কাঁচামালও এর মধ্যে পড়ছে।

ওষুধের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত উল্লেখযোগ্য ভাবে নির্ভরশীল চিনের উপরে

বর্তমানে কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে প্যাকেজিং, পরিবহণ সব কিছুরই খরচ বেড়েছে। ওষুধের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত উল্লেখযোগ্য ভাবে নির্ভরশীল চিনের উপরে। কিন্তু প্রথমে কোভিড ও পরে সীমান্তে দুই দেশের টানাপড়েনের ধাক্কা লেগেছে বাণিজ্যেও।” ওই কর্তা আরও বলেন, অত্যাবশ্যক ওষুধগুলির দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। দাম দশ শতাংশ বাড়লেও কিছুটা সুরাহা মিলবে ওষুধ নির্মাতা সংস্থাগুলির। তবে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে। কোরণার পর থেকে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন এবং অনেকের আয়ও কমেছে। বহু ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যে ভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের নিশ্বাস ফেলার জো নেই। রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধের ফলে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের রেকর্ড ভাঙা দাম বেড়েছে। তবে উত্তরপ্রদেশ সমেত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন যেতে না যেতেই দাম ঝড়ের গতিতে বাড়ছে। অন্যদিকে রান্নার গ্যাসেরও দাম ৫০ টাকা বেড়েছে।

কলকাতায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৭৬ টাকা। রান্নার তেল আর খাদ্যপণ্যেরও দাম বেড়েছে ।আবার এখন লাগাতার দাম বাড়ছে ওষুধেরও। কোরনা কালের পরিসংখ্যানেই দেখা যাচ্ছে, জ্বর, সর্দি-কাশি, পেট খারাপ, বদহজম থেকে শুরু করে সুগার, প্রেশার, থাইরয়েডের মতো ক্রনিক রোগের ওষুধের একটা বড় অংশের অনেকটাই দাম বেড়েছে। কার্ডিয়োথোরাসিক শল্য চিকিৎসক কুণাল সরকার বলেন, ‘‘রাজ্য বা কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলিতে হাসপাতালে ভর্তি থাকলে পরিষেবা পাওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ের চিকিৎসার ওষুধ খরচ মেলে না। সেটা নিজের পকেট থেকেই করতে হয়।’’ তিনি আরও বলেন, বছরে মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন। গড়ে প্রত্যেক ভারতবাসীর বছরে অন্তত তিন হাজার টাকা স্বাস্থ্যর জন্য খরচ হয়। তার মধ্যে ৭০ শতাংশ খরচই ওষুধ জন্য হয়।

পেট্রোল ডিজেলের পর এবার দাম বাড়ছে অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধের !

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: