25 C
Kolkata
Thursday, December 1, 2022
বাড়িদেশ বিদেশমৃত্যু হল কেরলের নিরামিষাশী ৭০ বছর বয়সী কুমিরের

মৃত্যু হল কেরলের নিরামিষাশী ৭০ বছর বয়সী কুমিরের

সাধারণত আমরা জানি কুমির (Crocodile) মাত্রেই হিংস্র প্রাণী। মাংসই তার প্রধান খাদ্য। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন কুমির নিরামিষাশী? অবাক লাগছে তো শুনে? আজ্ঞে হ্যাঁ, আপনি যা শুনেছেন তা একেবারেই সত্যি। কেরলের (Kerala) কাসারগড় এলাকার শ্রী আনন্দপদ্মনাভ মন্দিরে একটি কুমির বিগত ৭০ বছর ধরে নাকি নিরামিষ খাবার খেত। এমনকি কোনও দিন পুকুরের মাছেদেরও আক্রমণ করেনি সে। পুকুরই ছিল তার আস্তানা। কুমিরটির নাম বাবিয়া। প্রসঙ্গত, কেরলের বিখ্যাত সেই নিরামিষাশী কুমিরটি মারা গিয়েছে।

রবিবার কুমিরটির মৃত্যুতে ওই মন্দিরে শোকের ছায়া নেমেছে। জানা গিয়েছে, কুমিরটির বয়স হয়েছিল ৭০। কেরলের কাসারগড় জেলার অনন্তপুরা গ্রামের শ্রী আনন্দপদ্মনাভ মন্দিরটি ওই কুমিরটির জন্য বিখ্যাত ছিল। কুমিরটিকে একবার দেখার আশায় বহু মানুষ মন্দির চত্বরে ভিড় জমাতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কুমিরটি নাকি ভগবানের দূত। সেই কারণেই কুমিরটিকে ভক্তি করতেন স্থানীয়রা। বাবিয়ার শান্ত স্বভাব আলাদা করে সকলের নজর কাড়ত। জানা গিয়েছে, কখনও কাউকে আক্রমণ করেনি সে। সেই কারণেই তাকে ঘিরে মানুষের এত বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। সূত্রের খবর, নিরামিষ আহারই করত কুমিরটি।

এমনকি মন্দিরের পুরোহিতদের সঙ্গে কুমিরটির বন্ধন গাঢ় ছিল। ওই মন্দিরের পুরোহিতরাই দিনে দু’বার কুমিরটিকে খাওয়াতেন। এই প্রসঙ্গে কুমির বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ চৌধুরী বলেন, ‘‘বিষয়টি কিছুটা হলেও অস্বাভাবিক। যে কুমিরটিকে নিরামিষাশী বলে বর্ণনা করা হচ্ছে, সেটি আসলে মিষ্টি জলের কুমির (মগর)। মাছ এদের স্বাভাবিক খাদ্য। তবে হরিণ, বন্য শূকরের মতো প্রাণীর মাংসও খায় এরা।’’ উল্লেখ্য, কত বছর আগে ওই কুমিরটি মন্দির চত্বরের পুকুরে এসেছিল, কে তার নামকরণ করেছিল, সে বিষয়ে কেউই অবগত নন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কুমিরটি ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই মন্দিরে বাস করছিল।

মৃত্যু হল কেরলের নিরামিষাশী ৭০ বছর বয়সী কুমিরের

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: