25 C
Kolkata
Sunday, September 25, 2022

1857 WAR OF INDEPRNDENCE

WAR OF INDEPRNDENCE

“West Bengal Barrackpore সেনা ছাউনি”
1857/21 March ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে উত্তর এবং মধ্য ভারতে বিদ্রোহের সূচনা হয় সাধারণ ব্রিটিশ সৈনিক “মঙ্গল পাণ্ডের” নেতৃত্বে ।
ব্রিটিশ ভারতের প্রথম এই মহাবিদ্রোহ ইতিহাসে “সিপাহী বিদ্রোহ” নামে পরিচিত । আমাদের আজকের আলোচনা সেই “সিপাহী বিদ্রোহের” কিছু অংশ কে নিয়ে ।

১৮৫৭ ছিল একটি পর্যায়কাল। এই বিদ্রোহ ছিল কয়েক দশকের ভারতীয় সৈন্য এবং তাদের ব্রিটিশ অফিসারের মধ্যে সাংস্কৃতিক পার্থক্যের ফল। মুঘল এবং পেশয়ার মত ভারতীয় শাসকদের প্রতি ব্রিটিশের ভিন্ন নীতি এবং অযোধ্যার সংযুক্তি ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক মত পার্থক্য সূত্রপাত করছিল। “লর্ড ডালহৌসীর”, অদ্ভুত তত্ত্ব, “স্বত্ত্ববিলোপ নীতি”, যা দিল্লীর “মুঘল মাম্রাজ্যের”, অপসারণ করে দিয়েছিল ।
সেই কারণে কিছু জনগণ রেগে গিয়েছিল,আর সেই রাগ ছাই চাপা আগুনের মতন ধীরে,ধীরে অপ্রকাশ্যে জ্বলছিলো সেই, আগুনেই ঘৃতাহুতি দেয় সিপাহী বিদ্রোহ ।

সিপাহী বিদ্রোহ এর সুনির্দিষ্ট কারণ ছিলো সাধারণত “কার্তুজ” ।
1853 তৈরি .557 ক্যালিবার এনফিল্ড(P/৫৩) রাইফেল এর কার্তুজ,গরু ও শুকরের চর্বি, দিয়ে তৈরি হতো। সৈন্যের‍া তাদের রাইফেলের কার্তুজ লোড করার সময় তাদের দাঁত দিয়ে ভাঙে লাগাতে হতো সেই কার্তুজ। যেহেতু গরু ও শুকরের চর্বি মুখে দেওয়া হিন্দু এবং মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সৈন্যদের কাছে অধার্মিক কাজ ছিল। February 1857 ভরতীয়রা (ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে) নতুন কার্তুজ ব্যবহার করতে অস্বীকার করেছিল। ব্রিটিশ শাসকরা নতুন কার্তুজ প্রতিস্থাপন কর‍ার দাবী করেছিল যা মৌমাছির তেল ও শাকসব্জী তেল থেকে তৈরী হবে। কিন্তু সিপাহীদের কাছে গুজব টিকে থেকেছিল।

ব্যারাকপুরে শুরু হয় “সিপাহী বিদ্রোহ”

এর পর শুরু হল সেই বিদ্রোহের সূচনা কাল । “মঙ্গল পাণ্ডের” নেতৃত্বে 1857/21 March মার্চ ব্যারাকপুরে শুরু হয় “সিপাহী বিদ্রোহ”।

এরপর, শীঘ্রই তা মিরাট, দিল্লি , এবং ভারতের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

এই বিদ্রোহ সারা বাংলাদেশ জুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। চট্টগ্রাম ও ঢাকার প্রতিরোধ এবং সিলেট, যশোর, রংপুর, পাবনা ও দিনাজপুরের খণ্ড যুদ্ধসমূহ বাংলাদেশকে সর্তক ও উত্তেজনাকর করে তুলেছিল।
এই সিপাহী বিদ্রোহে যারা যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল
Kanpur — Nana Saheb, Tatia topi
Delhi— Ditio Bahadur Shah, bhakt kha
Lucknow — Begum Hazrat Mahal
Jhansi — Rani Lakshmibai
Allahabad— liaqat Ali
(Bihar)Jagdishpur — Kuwer Singh,Amar Singh
Meerat — Kadam Singh
Mathura — Devi Singh
Berle — Khan bahadur khan

1857 সালের 18 November চট্টগ্রামের পদাতিক বাহিনী প্রকাশ্য বিদ্রোহে মেতে ওঠে এবং জেলখানা হতে সকল বন্দিদের মুক্তি দেয়। তারা অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ দখল করে নেয়, কোষাগার লুণ্ঠন করে এবং অস্ত্রাগারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে, ত্রিপুরার দিকে অগ্রসর হয়।

WAR OF INDEPRNDENCE

চট্টগ্রামে সিপাহিদের মনোভাব ঢাকার রক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। সিপাহিদের আরও অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ 58রেজিমেন্টের তিনটি কোম্পানি এবং একশত নৌ-সেনা ঢাকায় প্রেরণ করে। একই সাথে যশোর, রংপুর, দিনাজপুরসহ বাংলাদেশের আরও কয়েকটি জেলায় একটি নৌ-ব্রিগেড পাঠানো হয়।

প্রধানতঃ ইউরোপীয় বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করে ঢাকা, রক্ষা করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নৌ-বিগ্রেড ঢাকা পৌঁছে সেখানে নিয়োজিত সিপাহিদের নিরস্ত্র করতে গেলে অবস্থা চরমে ওঠে।

22 November লালবাগে নিয়োজিত সিপাহিগণকে নিরস্ত্র করতে গেলে তারা প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। সংঘটিত খণ্ডযুদ্ধে বেশ কিছু সিপাহি নিহত ও বন্দি হয় এবং অনেকেই ময়মনসিংহের পথে পালিয়ে যায়। অধিকাংশ পলাতক সিপাহিই গ্রেপ্তার হয় এবং অতিদ্রুত গঠিত সামরিক আদালতে সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযুক্ত সিপাহিদের মধ্যে ১১ জন মৃত্যুদণ্ড এবং বাকিরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়,এ রায় দ্রুত কার্যকর করা হয়।

বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর এবং যশোরে চাপা ও প্রকাশ্য উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। পলাতক সিপাহি ও ইউরোপীয় সৈন্যদের মধ্যে সিলেট এবং অপরাপর স্থানে কয়েকটি সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে উভয় পক্ষেই প্রাণহানি ঘটে। সিলেট এবং যশোরে বন্দি ও নিরস্ত্র সিপাহিদের স্থানীয় বিচারকদের দ্বারা সংক্ষিপ্ত বিচার করা হয়। ফাঁসি ও নির্বাসন ছিল এ সংক্ষিপ্ত বিচারের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে , সিপাহি বিদ্রোহ , এর একটা অংশ, ১৮৫৭ সালের ১০ মে মিরাট শহরে শুরু হওয়া । যা, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীর সিপাহিদের বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ। ক্রমশ এই বিদ্রোহ গোটা উত্তর ও মধ্য ভারতে শুরু হয়ে ওঠে ।

অধুনা উত্তরপ্রদেশ, বিহার, উত্তর মধ্যপ্রদেশ, ও দিল্লি, অঞ্চল ছড়িয়ে পড়েছিল এই বিদ্রোহ । এই সব অঞ্চলে বিদ্রোহীদের দমন করতে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে, যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।

পাঞ্জাবের শিখ রাজ্যগুলি ব্রিটিশদের সৈন্য সরবরাহ করে সমর্থন জোগায় ব্রিটিশ দের, বড় দেশীয় রাজ্যগুলির মধ্যে, হায়দ্রাবাদ, মহীশূর, ত্রিবাঙ্কুর ও কাশ্মীর, ও রাজপুতানার , মতো ছোট রাজ্যগুলিও বিদ্রোহ থেকে দূরে থাকে।

আবার অযোধ্যার মতো কোনো কোনো অঞ্চলে বিদ্রোহীরা ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চূড়ান্ত দেশপ্রেমের নিদর্শন স্থাপন করে।

WAR OF INDEPRNDENCE

ঝাঁসির রানি লক্ষ্মী বাঈ, তুলসীপুরের রানি ঈশ্বরী কুমারী দেবী, প্রমুখেরা ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে লোকনায়কে পরিণত হন।

অন্যান্য প্রধান নেতৃবর্গের মধ্যে ছিলেন, নানা সাহেব, তাঁতিয়া তোপী, কুনওয়ার সিং ইত্যাদি সামন্ত রাজা ও সৈনিকেরা। যদিও অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন তারা কোনো উচ্চ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হননি।

সিপাহি বিদ্রোহের পর ১৮৫৮ সালে ভারতে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-শাসনের অবসান ঘটে । ব্রিটিশরা সেনাবাহিনী, অর্থব্যবস্থা ও ভারতীয় প্রশাসন পুনর্গঠনে বাধ্য হয়। ভারত প্রত্যক্ষভাবে ব্রিটেনের রানির শাসনের অধীনে আসে।

1858/20 June গোয়ালিয়রে বিদ্রোহীদের,পরাজয়ের পরই একমাত্র বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হয়।

সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ১৮৫৮ সালের গণ-অভ্যুত্থান নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে।

এই বিদ্রোহ দমন করা হয় নির্মমভাবে বহু নিরপরাধ নরনারী, শিশু বৃদ্ধদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়।

WAR OF INDEPRNDENCE

সিপাহি যুদ্ধের সময়ে বিভিন্ন শ্রেণীর, ভারতীয় মানুষের ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া একটি অনুজ্জ্বল চিত্র প্রতিফলিত করে।
ভারতীয় জমিদার-জোতদারগণ নিশ্চিতভাবে সিপাহিদের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ গরু ও ঘোড়ার গাড়ি এবং হাতি সরবরাহ; পলায়নরত সিপাহিদের গতিবিধির সন্ধান প্রদান এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে বিদ্রোহী সিপাহিদের প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছসেবক বাহিনী গড়ে কোম্পানির স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কৌশলগত সমর্থন প্রদান করেন। সরকার কৃতজ্ঞতার সাথে জমিদার-জোতদারগণের এ সকল সেবার স্বীকৃতি প্রদান করে এবং পরে তাদেরকে নওয়াব খান বাহাদুর খান, সাহেব রায় বাহাদুর, রায় সাহেব প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করে ও নানা পার্থিব সম্পদ দ্বারা পুরস্কৃত করে। জমিদার-জোতদারগণের প্রদর্শিত ভূমিকা অনুসরণ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীও কোম্পানির সরকারের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। সাধারণ মানুষ ও কৃষককুল সার্বিকভাবে এ বিষয়ে উদাসীন ছিল এবং সিপাহি যুদ্ধের স্পর্শ থেকে দূরে ছিল। তবে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির ফলে তারা যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতদসত্ত্বেও এই মহাবিদ্রোহ আঠেরেশো শতকের পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণ অভ্যুত্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে যা ইংরেজ শাসনের ভিতকে কাঁপিয়ে দেয়।
জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিক ও পন্ডিতেরা তাই একে সিপাহী বিদ্রোহের বদলে জাতীয় মহাবিদ্রোহ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

আজও “ব্যারাকপুর” অঞ্চলে মঙ্গল পাণ্ডের ঘাট, মঙ্গল পাণ্ডের স্মৃতিসৌধ, আর মঙ্গল পাণ্ডে কে যে গাছে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল সেই সব ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে দাড়িয়ে আছে এবং অস্ফুটে বলে চলেছে সেদিন,
৯০ বছর আগেই হয়তো ভারত স্বাধীনতা পেয়ে যেতো ব্রিটিশের হাত থেকে যদি না দেশের কিছু বিশ্বাসঘাতক আর বেইমান ভারতবাসী সেদিন ব্রিটিশ শাসক কে ক্ষুদ্র স্বার্থের আর লোভের জন্যে সমর্থন আর সাহায্য না করতো ।

1857 WAR OF INDEPRNDENCE

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: