25 C
Kolkata
Monday, December 5, 2022
বাড়িরাজ্যকলকাতাহুগলীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে আংশিক অশান্তি

হুগলীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে আংশিক অশান্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা,অর্পিতা মন্ডল- গতকাল শনিবার হুগলির ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রায় শান্তিপূর্ণ ভাবেই। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া ভোটদানকে কেন্দ্র করে কোথাও তেমন অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।

চন্দননগর থেকে চাঁপদানি, উত্তরপাড়া থেকে চুঁচুড়া সর্বত্রই মানুষ নিরুপদ্রবে ভোট দিয়েছেন। তবে কিছু অশান্তির অভিযোগ করেন বিজেপির হুগলির সাংসদ। তারপরে সন্ধ্যার মুখে ফের উত্তেজনা তৈরি হয় সেই চুঁচুড়াতেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিস ব্যান্ডেলের একটি বুথের সামনে দু’পক্ষের সমর্থকদের উপরে লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ।

শনিবার একঝাঁক হেভিওয়েট প্রার্থী পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। অধিকাংশ প্রার্থীই দাবি করেছেন, ভোটগ্রহণ শান্তিতে হয়েছে।
তবে সামগ্রিকভাবে এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সুর ছিল চড়া।

তৃণমূল কংগ্রেস তো বটেই, বামজোটের প্রার্থীদের অনেকেই নির্বাচনের কাজে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। চন্দননগরের বিন্দুবাসিনী পাড়ার একটি বুথে বিএলও বিভাগের এক কর্মীকে পর্যন্ত নির্বাচনী কেন্দ্রের ত্রিসীমানার মধ্যে বসতে দেয়নি বাহিনী। ওই মহিলা কর্মীকে ঠা ঠা রোদের মধ্যে বুথ থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটি কোণে গিয়ে বসে থাকতে হয়। জেলা নির্বাচন দপ্তর অবশ্য বাহিনীর অতিসক্রিয়তার কোনও অভিযোগ পায়নি বলে দাবি করেছে।

এদিন চাঁপদানির কংগ্রেস জোট প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী মন্ত্রী তথা সপ্তগ্রামের প্রার্থী তপন দাশগুপ্ত বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে বিজেপির তরফে প্রবল উস্কানি ছিল। কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি।

চুঁচুড়াতে একাধিক জায়গায় উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্যনেতা স্বপন পাল বলেন, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তার জন্যেই মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন। তার মধ্যেও তৃণমূল কংগ্রেস একাধিক জায়গায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের উপরে হামলাও হয়েছে।

এদিন সকাল থেকেই বুথে বুথে লম্বা লাইন পড়েছিল। গ্রামীণ ও শহুরে হুগলির ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা গিয়েছে। হুগলিতে ১০৫ বছরের এক বৃদ্ধও লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। এরই মধ্যে সকালে চুঁচুড়ার ইশ্বরবাহা এলাকায় একপ্রস্ত অশান্তি হয়।

সন্ধ্যার মুখে ফের চুঁচুড়ার ব্যান্ডেলের হিন্দি স্কুলে বিজেপি ও তৃণমূলের প্রার্থী প্রায় একইসঙ্গে ঢোকার জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এদিন চুঁচুড়া ও চণ্ডীতলার বিজেপি প্রার্থীকে গো-ব্যাক স্লোগান শুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

ভোট শান্তিপূর্ণভাবে মিটলেও কিছুক্ষেত্রে ইভিএম ভিলেনের ভূমিকা পালন করেছে। জেলা নির্বাচন দপ্তর অবশ্য জানিয়েছে, যেখানে অভিযোগ এসেছে দ্রুত তার সমাধান করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: