25 C
Kolkata
Sunday, October 2, 2022
বাড়িবিনোদনভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের চিত্র সাংবাদিক জয়া থমাস লোবো

ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের চিত্র সাংবাদিক জয়া থমাস লোবো

ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের চিত্র সাংবাদিক জয়া থমাস লোবো:

এক অবিশ্বাস্য জীবন কাহিনীর সাক্ষী জয়া

নিজস্ব প্রতিবেদন- তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ কে দেখে একবার হলেও ফিরে তাকাননি এমন মানুষ খুবই কম। আর বারবার তাদের অবহেলিত হতে হয় সমাজের আনাচে-কানাচে। কিন্তু সবক্ষেত্রেই যে তারা শুধু লাঞ্ছিত-ই হবে এমনটা কখনই না।

এমনই এক অবিশ্বাস্য জীবন কাহিনীর সাক্ষী জয়া থমাস লোবো। চোখে মোটা কাজল, কানে সোনালী দুল, গলায় মোটা চেন এবং হাতের ছোট্ট ব্যাগে ফুটে ওঠে তাঁর সুস্পষ্ট ফ্যাশন সেন্স। আধো ভাঙা ইংরাজিতেও সুস্পষ্ট সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা প্রমাণ দেয় তাঁর আত্মবিশ্বাসের।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ার কারণে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। ক্রিস্টান সম্প্রদায়ে বেড়ে ওঠার কারণে ইংরেজি ভাষা রপ্ত করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাঁকে।

মা এবং ছোটো দুই ভাইবোনের পরিবারে ছোটবয়সেই রোজগারের পথ খুঁজতে হয় জয়াকে। রেল স্টেশনের কাছেই মহিম কাপড় বাজারে থাকতেন তাঁরা। তাই রেলের কামরাকেই রোজগারের প্রথম পথ হিসাবে আঁকড়ে ধরেন জয়া।

দিল্লির লোকাল ট্রেনের মহিলা কামরায় ভিক্ষা করেই জীবন শুরু তাঁর। পুরুষ যাত্রীদের কটূক্তির শিকারও হতে হতো তাঁকে। ‘অপরাধ’ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ তিনি। তারপর দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে অবশেষে ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের চিত্র সাংবাদিক হয়ে ওঠা।

জয়া জানান, “মাত্র ১১ বছর বয়সে আমি অন্যান্য ছেলেদের সঙ্গে নিজের পার্থক্যটা বুঝতে পারি। মার খাওয়ার ভয়ে সে সময়ে কারোর সঙ্গেই কথা বলতে পারতাম না। হেনস্থার ভয়ে একের পর এক বাড়ি বদল করেছি আমরা। ১৭ বছর বয়সে গুরু সালমার সঙ্গে পরিচয় হয় আমার। তিনিই আমাকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করান। নিজের পরিচয় গড়ে তুলতেও সাহায্য করেন তিনি।”

জয়া থমাস লোবো: ছোট থেকে ছবি তোলার শখ

গত বছর লকডাউনের জেরে বন্ধ হয়ে যায় লোকাল ট্রেন পরিষেবা। আর সেই সুযোগই আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায় জয়ার কাছে। বন্দ্রা স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের অবরোধের ছবি তুলেই যাত্রা শুরু তাঁর।

ছোট থেকে ছবি তোলার শখ থাকলেও পাননি সুযোগ। তাই অবশেষে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি জয়া। হয়ে উঠেছেন ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের চিত্র সাংবাদিক।

প্রথম চিত্র সাংবাদিক হিসাবে আত্মপ্রকাশের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে জয়া জানান, “লোকাল ট্রেন থেকেই আমার এই নতুন অধ্যায়ের যাত্রা শুরু। বন্দ্রা স্টেশনে একশর বেশি পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতিবাদের দৃশ্য দেখেই প্রথম সেটি ক্যামেরা বন্দি করার ইচ্ছা হয়। আমি বাড়ি থেকে ক্যামেরা নিয়ে এসে সেই ছবি তুলে রাখি। পরে সেই ছবিই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।”

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: