25 C
Kolkata
Tuesday, November 29, 2022
বাড়িখেলাক্রিকেটভারতকে হারিয়ে টেষ্টে নিউজিল্যান্ড-ই বিশ্বসেরা

ভারতকে হারিয়ে টেষ্টে নিউজিল্যান্ড-ই বিশ্বসেরা

ভারতকে হারিয়ে টেষ্টে নিউজিল্যান্ড-ই বিশ্বসেরা:

দেখিয়ে দিলেন, কীভাবে ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ বের করতে হয়

নিজস্ব প্রতিবেদন- অবশেষে শাপমুক্তি। বার বার খেতাবের দোরগোড়া থেকে ফিরে আসার ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত ঘোচাতে সফল কিউয়িরা। ভারতকে ৮ উইকেটে হারিয়ে টেস্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিলান্ড। খেলায় হার-জিত থাকে। কিন্তু এই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনার সুষ্ঠু রূপায়নে সফল কিউয়ি ব্রিগেড। প্রশংসা করতেই হবে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের। তিনি দেখিয়ে দিলেন, কীভাবে ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ বের করতে হয়। তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে গেলেন রস টেলরও। উইনিং স্কোর এল তাঁরই ব্যাটে। অভিজ্ঞতা যে কতটা মূল্যবান, সেটা আরও একবার ধরা পড়ল এই জুটির খেলায়। উইলিয়ামসন ৫২ ও টেলর ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
দিনের শুরুতে ব্যর্থতার মিছিলে পোস্টার হাতে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলেন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটসম্যানরা। যেন এক খুরে মাথা কামানো সবার। ড্র করলেই যেখানে ট্রফি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানে উইকেট ‘উপহার’ দিয়ে কিউয়িদের এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাস্তা মসৃণ করে দেন কোহলিরা। এর পরেও কি ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন হবে না? কোচ হিসেবে রবি শাস্ত্রী পুরোপুরি ব্যর্থ। তাঁর আমলে ভারত চারবার আইসিসি’র টুর্নামেন্টে হতাশ করল। কোহলির নেতৃত্বে টিম ইন্ডিয়া কবে বিশ্ব মঞ্চে খেতাব জিতবে বলা মুশকিল।
জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের দরকার ছিল ১৩৯ রান। ভারতীয় পেসাররা যখন শুরুতে উইকেট তুলতে ব্যর্থ, তখন অশ্বিনের হাতে বল দেন কোহলি। বিশ্বস্ত সৈনিকের মতো ক্যাপ্টেনের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা রেখে পর পর টম লাথাম (৯) ও কনওয়েকে (১৯) ফেরান তিনি। বাকি বোলারদের তেমন তাগিদ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট অবশ্যই রিভিউ নিয়ে কেন উইলিয়ামসনের জীবন ফিরে পাওয়া। অশ্বিনের ডেলিভারিতে স্যুইপ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন কিউয়ি অধিনায়ক। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার আউটও দিয়ে দেন। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি লেগ স্টাম্পের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন কিউয়িরা। ক্রিকেট দেবতা হয়তো উইলিয়ামসনের হাতে ট্রফি দেখতে চেয়েছিলেন। না হলে রস টেলরের সহজ ক্যাচ স্লিপে ফেলতেন না পূজারা।

নিউজিল্যান্ড : রিজার্ভ ডে ছিল রোদঝলমলে

ষষ্ঠ তথা রিজার্ভ ডে ছিল রোদঝলমলে। দুশ্চিন্তার কালো মেঘের অনধিকার প্রবেশ। ব্যাটিংয়ের জন্য এর চেয়ে ভালো পরিবেশ ইংল্যান্ডে প্রত্যাশা করা অনুচিত। ভারত যখন ২ উইকেটে ৬৪ রান নিয়ে শুরু করল, তখন একবারও মনে হয়নি এত তাড়াতাড়ি স্কোরবোর্ড ৭২-৪ হয়ে যাবে। বিরাট (১৩) ব্যর্থতার ঘোর কাটতে না কাটতেই চেতেশ্বর পূজারাও স্লিপে রস টেলরের হাতে ধরা পড়েন ১৫ রানে। ভারতীয় ব্যাটিং তখন রীতিমতো কাঁপছে। চেপে বসেছে হারের আতঙ্কও। লিড তখন নামমাত্র। প্রবল চাপ উপেক্ষা করে ঋষভ পন্থকে নিয়ে বেশ ভালোই এগোচ্ছিলেন অজিঙ্কা রাহানে (১৫)। রানও উঠছিল দ্রুত গতিতে। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁর মতো ব্যাটসম্যান বোল্টের লেগ সাইডের বলে বোকার মতো খোঁচা দিয়ে কট বিহাইন্ড হন।
তবুও ভারতীয় সমর্থকদের অনেকেরই ৮৩’র সন্ধ্যা মনে পড়ছিল। কেউ আবার ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে দেখার চেষ্টা করছিলেন ব্রিসবেন টেস্ট। যেখানে টিম ইন্ডিয়াকে দুর্দান্ত জয় এনে দিয়েছিলেন ঋষভ পন্থ ও ওয়াশিংটন সুন্দর। এদিন ঋষভ ৫ রানে জীবন ফিরে পাওয়ার পর একটু বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। জাদেজার সঙ্গে স্ট্রাইক রোটেট করে বেশ ভালোই খেলছিলেন তিনি। লাঞ্চে ভারতের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৩০। কিন্তু তার পরেই নাটকীয়ভাবে মোড় ঘুরতে শুরু করে। পরিকল্পনা মতো কোনাকুনি বল করে জাদেজাকে (১৬) আউট করেন ওয়াগনার। কিছুক্ষণের মধ্যেই তুলে মারতে গিয়ে আউট হন ঋষভও (৪১)। দুরন্ত প্রয়াসে তাঁর ক্যাচটি ধরেন নিকলস। ১৩ রান যোগ করেন সামি। ১৭০ রানেই শেষ হয়ে যায় ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস, সঙ্গে খেতাবের স্বপ্নও।

স্কোরবোর্ড

প্রথম ইনিংস ভারত- ২১৭। নিউজিল্যান্ড- ২৪৯।
দ্বিতীয় ইনিংস ভারত (২ উইকেটে ৬৪ থেকে) পুজারা ক টেলর বো জেমিসন ১৫, কোহলি ক ওয়াটলিং বো জেমিসন ১৩, রাহানে ক ওয়াটলিং বো বোল্ট ১৫, পন্থ ক নিকলস বো বোল্ট ৪১, জাদেজা ক ওয়াটলিং বো ওয়াগনার ১৬,অশ্বিন ক টেলর বো বোল্ট ৭, সামি ক লাথাম বো সাউদি ১৩, বুমরাহ ক লাথাম বো সাউদি ০, ইশান্ত অপরাজিত ১, অতিরিক্ত ১১, মোট ৭৩ ওভারে ১৭০। উইকেট পতন:৩-৭১, ৪-৭২, ৫-১০৯, ৬-১৪২, ৭-১৫৬, ৮-১৫৬, ৯-১৭০, ১০-১৭০ বোলিং : সাউদি ১৯-৪-৪৮-৪, বোল্ট ১৫-২-৩৯-৩, জেমিসন ২৪-১০-৩০-২, ওয়াগনার ১৫-২-৪৪-১।
দ্বিতীয় ইনিংস নিউজিল্যান্ড: লাথাম স্টাম্প পন্থ বো অশ্বিন ৯, ডেভন কনওয়ে এলবিডব্লু বো অশ্বিন ১৯, উইলিয়ামসন অপরাজিত ৫২, টেলর অপরাজিত ৪৭, অতিরিক্ত ১৩, মোট ৪৫.৫ ওভারে ২ উইকেটে ১৪০। উইকেট পতন ১-৩৩, ২-৪৪। বোলিং: ইশান্ত ৬.২-২-২১-০, সামি ১০.৫-৩-৩১-০, বুমরাহ ১০.৪-২-৩৫-০, অশ্বিন ১০-৫-১৭-২ জাদেজা ৮-১-২৫-০।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: