25 C
Kolkata
Sunday, December 4, 2022
বাড়িরাজ্যকলকাতাজনতা কার্ফুর এক বছর

জনতা কার্ফুর এক বছর

নিজস্ব সংবাদদাতা, অর্পিতা মন্ডল- ২০২০ সালের ২২শে মার্চ, ঠিক এমন দিনেই গোটা ভারতবাসী সাক্ষী হয়েছিল এক ইতিহাসের। এমন ইতিহাস যা হয়তো একশো বছর আগেও কেউ কল্পনা করতে পারেনি। সেই ইতিহাসের নাম ‘করোনা’। এমন এক মারন রোগ যা এক লহমায় বদলে দিয়েছে কোটি কোটি মানুষের জীবন যাত্রাকে। প্রথম আভাস এসেছিল ২০১৯ এর শেষের দিক থেকে। কিন্তু সে যে কিছু দিনের মধ্যেই গ্রাস করে নেবে সমগ্র পৃথিবীকে তা হয়তো টের পায়নি কেউই।

আজ সেই কার্ফুর এক বছর।

ভাইরাসটি যখন অনেকখানি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিল সেই মুহূর্তেই ডাকা হলো এই ‘জনতা কার্ফু’র । ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজী। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধের জন্য গোটা দেশ কতটা প্রস্তুত, সেটাই ওইদিন বোঝা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন। তিনিই এর নাম দিয়েছিলেন ‘জনতা কারফিউ’ অর্থাৎ যেখানে মানুষ নিজে থেকেই ঘরবন্দী থাকবেন।

জাতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, “করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় রবিবার ২২শে মার্চ সারা দেশে ‘জনতা কারফিউ’ বলবৎ থাকবে। সকাল সাতটায় সারা দেশে সাইরেন বাজিয়ে এই কারফিউ শুরু হবে।”

বিভীষিকাময় সেই দিন থমকে গিয়েছিল সবকিছু। এরপর আমরা সকলেই সবটা জানি। কিন্তু আমরা কি কখনো কেউ ভুলতে পারবো সেই দিন গুলো? আমরা কি ভাবতে পেরেছিলাম যে,আমরা চব্বিশ টা ঘন্টা ঘরবন্দি হয়ে থাকতে পারবো? যে রবীন্দ্রনাথ শিশুদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, “মাগো আমায় ছুটি দিতে বল”, তিনি আজ বেঁচে থাকলে কি লিখতেন?

এই এক বছরে আমরা দেখলাম অনাহার, দুর্দশা, দুর্ভিক্ষ, কি হয়। মৃত্যু কি কেবল হয়েছিল এই মারন রোগেই?
না।
রোগের পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই মানুষ গুলোর যারা সাহায্য নেওয়ার জন্য সাহায্য চাইতে পারেনি আত্মগ্লানীর জ্বালায়। একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা এসেছিল আমাদের সামনে। আমরা দেখেছি একের পর এক বিবাহ বিচ্ছেদ। আমরা দেখেছি ‘পরিযায়ী শ্রমিক’ দের। দেশ বিদেশ থেকে ঘরে ফিরে আসার জন্য আর্তনাদ। দেখেছি পায়ে হেঁটে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার মতো ক্ষমতাশালী মানুষদের, আবার নিজের অর্থে পরিযায়ীদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সনু সুদের মতো রিয়েল লাইফ হিরো দের। আমরা দেখেছি প্রকৃতিকে সময় দিলে সে নিজেই কিভাবে নিজের ক্ষতি পূরণ করে নিতে পারে।

ভাঙা-গড়া, জীবন-মৃত্যর এই একবছরের প্রভাব কি আদৌ আমরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি? আমরা কি পেরেছি সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগাতে? এর উত্তর হয়তো পাওয়া যাবে আগন্তু করোনার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: