25 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
বাড়িরাজ্যকলকাতাখালি হচ্ছে কোভিড হাসপাতালের বেড সংখ্যা

খালি হচ্ছে কোভিড হাসপাতালের বেড সংখ্যা

রাজ্যজুড়ে স্বস্থির নিঃশ্বাস। খালি হচ্ছে কোভিড হাসপাতালের বেড সংখ্যা

 

রাজ্যজুড়েই করোনার প্রকোপ কমছে। তার সবচেয়ে বেশি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কলকাতায়। জেলাস্তরেও করোনা কমছে ঠিকই, তবে তুলনায় ধীর গতিতে। কিন্তু সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে, কমছে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা। ফলে শুধু কলকাতাতেই নয়, তুলনায় কম হলেও রাজ্যের সর্বত্রই চাপ কমছে কোভিড হাসপাতাল গুলির। গত এক মাসে দেখা যাচ্ছে, তুলনায় ফাঁকা বেডের সংখ্যা বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ গুণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, কোভিড লেখচিত্রের দৈনিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট, নমুনা পরীক্ষা না কমলেও গত এক মাসে কী হারে কমেছে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পরীক্ষিত নমুনার তুলনায় পজিটিভ আসার হার বা কেস পজিটিভিটি রেট (সিপিআর) একসময়ে ৩০% ছুঁইছুঁই হয়ে গেলেও কমতে কমতে এখন তা তিন ভাগের এক ভাগ হয়ে গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কোভিড বুলেটিন বলছে, ৭৪,৫৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে গত ২৪ ঘণ্টায় পজিটিভ এসেছেন ৮,৮১১ জন। অর্থাৎ, এখন ১১.৮% হলো পজিটিভিটির হার।

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে রাজ্যে মোট কোভিড বেডের সংখ্যা ৩৯,৩৭৪টি। মাসখানেক আগেও এই বেডগুলির মধ্যে গড়ে পাঁচ-সাত হাজার বেড খালি মিলতো। ফলে অসুস্থ প্রিয়জনকে নিয়ে নিত্যই অকুল পাথারে পড়তে হতো আত্মীয়দের। একাধিক হাসপাতাল ঘুরে কখনও কেউ বেড পেতেন, কখনও বা তাও পেতেন না বলে নিয়মিত অভিযোগ উঠত। কিন্তু সেই অভিযোগের বহরও এখন লক্ষ্যণীয় ভাবে তলানিতে। কেননা, এখন দেখা যাচ্ছে, গড়ে ২২-২৩ হাজার বেড খালি থাকছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ইন্টিগ্রেটেড কোভিড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবারও সারা বাংলায় মোট ২২,৫৩৩টি কোভিড বেড খালি রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, দৈনিক আক্রান্তের হার মে মাসের মাঝেও যেখানে প্রায় ২০ হাজার ছিল, এখন সেই সংখ্যাটাই নয় হাজারে নেমে আসায় চাপ কমেছে হাসপাতালের।

বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে বণিকসভার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে হাজির স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, “একটা সময়ে রাজ্যে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা প্রায় ১.৪০ লক্ষ হয়ে গিয়েছিল। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকায় এবং করোনামুক্তির হার বাড়তে থাকায় এখন অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ৭০ হাজারের আশপাশে।”

স্বাস্থ্য মহলের ব্যাখ্যা, ঠিক এই কারণেই আজকাল কোভিড বেড খালি মিলছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী অবশ্য সাবধানী। তাঁর বক্তব্য, “এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। এখনও অনেকটা পথ বাকি।” তবে তিনি জানাচ্ছেন, গত ১৬ মে থেকে রাজ্যজুড়ে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ না-হলে এত দ্রুত এত কমত না প্রকোপ। তাঁর মতে, এই হ্রাস শহরাঞ্চলে বেশি, তুলনায় কম জেলাস্তরে। তবে সর্বত্রই কোভিড লেখচিত্র নিম্নগামী বলেই আগের তুলনায় কম করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাই আজকাল বেড না-মেলার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে না মানুষের মুখে।

তবে টেস্টের সংখ্যা যেন না কমে, সে ব্যাপারেও স্বাস্থ্য দপ্তর যে সতর্ক, সে কথাও জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যভবনের পদস্থ আধিকারিকরা। কেননা, যথাযথ ভাবে টেস্ট ও আইসোলেশনের পাশাপাশি কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংকেই সংক্রমণে লাগাম পরানোর সেরা অস্ত্র বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের জনস্বাস্থ্য শাখার অফিসাররা।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: