25 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
বাড়িরাজ্যকলকাতাকেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে রক্তাক্ত শীতলকুচি

কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে রক্তাক্ত শীতলকুচি

নিজস্ব সংবাদদাতা,অর্পিতা মন্ডল- গত শনিবার ছিল রাজ্য বিধানসভার চতুর্থ দফার ভোট। কিন্তু এই দফার ভোট হলো রক্তাক্ত। যে নির্বাচনে মানুষকে নিরাপত্তা দিতে আসে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেই বাহিনীর গুলিতেই ঘটল প্রাণহানির ঘটনা। সাম্প্রতিক অতীতে যা নজিরবিহীন।

ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের শীতলকুচি বিধানসভার আমতলি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের ১২৬ নম্বর বুথে। এদিন ভোটগ্রহণ চলাকালীন পৌনে ১০টা নাগাদ বুথের নিরাপত্তায় থাকা সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (CISF) ছোড়া গুলিতে মৃত্যু হয় চারজন তরতাজা যুবকের। জখম হয় আরও কয়েকজন।

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুলিস পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা আক্রমণ চালায় বুথে। ভোটকর্মীদের মারধর করার সঙ্গেই বাহিনীর জওয়ানদের আগ্নেয়াস্ত্রও ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। শূন্যে গুলি চালিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সরকারি সম্পত্তি ও আত্মরক্ষায় গুলি চালায় সিআইএসএফ।

গোলমালের জেরে শীতলকুচির ওই বুথের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয় কমিশন। জনতার আক্রমণে দুজন পোলিং অফিসার, এক হোমগার্ড ও এক আশা কর্মী জখম হয়েছেন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব জানিয়েছেন, কবে সেখানে পুনরায় ভোট নেওয়া হবে, তা পরে জানানো হবে বলে।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চতুর্থ দফায় ৪৪টি কেন্দ্র ভোট পড়েছে ৭৬.১৬ শতাংশ। এরই মধ্যে শীতলকুচির ঘটনার প্রেক্ষিতে রাতেই দুটি কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, হিংসাদীর্ণ কোচবিহারে আগামী তিনদিন যেতে পারবেন না কোনও রাজনৈতিক নেতা নেত্রী। পাশাপাশি পঞ্চম দফার ভোটের প্রচারও ৭২ ঘণ্টা আগেই শেষ হবে।

তৃণমূলের মুখপাত্র সৌগত রায়ের অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত। এর মধ্যে দিয়ে  কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট চেহারাই বাংলার মানুষ দেখতে পাচ্ছে”।

এদিকে, শীতলকুচির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলা বাড়তেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য। ক্ষিপ্ত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণবঙ্গের প্রচার শেষ করে এদিনই শিলিগুড়ি যান।

অন্যদিকে, শিলিগুড়ির সভা থেকে এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনার জন্য দিদির উসকানি কে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপও তিনি চেয়েছেন। চতুর্থ দফার ভোটে প্রাণহানির দ্বিতীয় ঘটনাটিও ঘটেছে শীতলকুচিতেই।

স্থানীয় লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠানটুলির ২৮৫ নম্বর বুথে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে আনন্দ বর্মন নামে ১৮ বছর বয়সি এক নতুন ভোটারের।

বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই গুলি চালিয়েছে। জোড়াফুল শিবির অবশ্য ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে শীতলকুচির ঘটনা বাদে রাজ্যের বাকি ৩০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পর্ব ‘শান্তিপূর্ণ’ ভাবেই শেষ হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: