25 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
বাড়িরাজ্যকলকাতাকরোনায় শেষ হলো আরও এক অধ্যায়। সাহিত্য জগতে আর নেই তিনি

করোনায় শেষ হলো আরও এক অধ্যায়। সাহিত্য জগতে আর নেই তিনি

নিজস্ব সংবাদদাতা,অর্পিতা মন্ডল- লড়াই শেষ। করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ কেড়ে নিল কবি শঙ্খ ঘোষকে। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। গায়ে জ্বর থাকায় করোনা পরীক্ষা করান তিনি। গত বুধবার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শরীরে বেশ দুর্বল ছিল। লকডাউনে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল। নানারকম উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও বাড়িতেই আইসোলেশনে ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎই শারীরিক অবস্তার অবনতি ঘটে। বুধবার সকালে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। আজ বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রয়াত হন তিনি।

মাঝেমধ্যেই রাজনীতিতে মন্তব্য করেতন। কবিতা দিয়ে গর্জে উঠতেন শঙ্খ ঘোষ। ‘মাটি’ নামক কবিতায় নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। নাগরিক সমাজের বলিষ্ঠ কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি ছিল তাঁর। শারীরিক অসুস্থতায় প্রতিবাদ মঞ্চে পৌঁছতে না পারলেও রেকর্ড করে বার্তা পাঠিয়ে দিতেন। আর বাধ সাধল সেই শরীরই। বাংলা সাহিত্যজগত তাঁর প্রতিবাদ কণ্ঠকে হারালো।

বাংলা সাহিত্যজগতে শঙ্খ ঘোষের অবদান চিরস্মরণীয়। ‘দিনগুলি রাতগুলি’,’ বাবরের প্রার্থনা’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

অনেক বড় দায়িত্ব সামলেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছেন তিনি। একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ১৯৭৭ সালে ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থটির জন্য সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় ‘রক্তকল্যাণ’ নাটকটি অনুবাদ করেও সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়াও রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১১ সালে তাঁকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার পদ্মভূষণে সংবর্ধিত করে।

বালুরঘাট থেকে কবির ছোট মেয়েকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। পরিবার সূত্রে খবর, গান স্যালুট পছন্দ করতেন না কবি। তাঁদের কথা মেনেই মুখ্যমন্ত্রী শেষকৃত্যের আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন। উল্টোডাঙ্গার বাড়ি থেকে নীরবেই নিমতলা শ্মশানে হবে শেষকৃত্য, আবেদন জানিয়েছে পরিবার।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

%d bloggers like this: